চট্টগ্রাম বন্দরে ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশের ঘোষণা দিয়ে আনা একটি কনটেইনারে মিলেছে লেক্সাস ও বিএমডব্লিউসহ বিলাসবহুল তিন গাড়ির খণ্ডিত অংশ।
মঙ্গলবার পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) অভিযান চালিয়ে চালানটি আটক করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। শুল্ক-করসহ চালানটির মূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালক সাগর সেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আটক গাড়ির অংশের মধ্যে রয়েছে লেক্সাস এলএক্স-৬০০, লেক্সাস এসসি-৪৩০ ও বিএমডব্লিউ এম৫-এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এছাড়া হোন্ডা বি১৮সি টাইপ-আর ইঞ্জিন, ফ্রন্ট হাফ-কাট, অন্যান্য যন্ত্রাংশ ও টায়ার পাওয়া গেছে।
কাস্টমস সূত্র জানায়, ঢাকার ক্রাউন অটোমোবাইল সার্ভিসেস জাপান থেকে ৪০ ফুটের একটি কনটেইনারে ১৬৭ প্যাকেজে ৮ হাজার ১৮ কেজি পণ্য আমদানি করে। ঘোষণায় এগুলোকে ব্যবহৃত গাড়ির খুচরা যন্ত্রাংশ ও গিয়ারবক্স সংযুক্ত ব্যবহৃত পেট্রল ইঞ্জিন বলা হয়।
তবে কনটেইনার খুলে ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের মিল পাওয়া যায়নি। সামনে পুরোনো যন্ত্রাংশ রেখে তার আড়ালে তিন স্তরে বিলাসবহুল গাড়ির বড় বড় খণ্ডিত অংশ রাখা হয়েছিল।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, গাড়িগুলো সম্পূর্ণ অবস্থায় না এনে ফ্রন্ট কাট, রিয়ার বা টেইল কাটসহ কয়েকটি বড় অংশে ভাগ করে আংশিক সংযোজিত অবস্থায় আনা হয়। পরে দেশে এনে পুনরায় সংযোজন করে পূর্ণাঙ্গ গাড়ি হিসেবে ব্যবহার বা বিক্রির উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
বিলাসবহুল গাড়ি আমদানিতে শুল্ক-কর অনেক বেশি। গাড়ির ধরনভেদে শুল্কযোগ্যতার হার ১০৩ থেকে ৬২১ শতাংশ পর্যন্ত। কাস্টমস গোয়েন্দাদের ধারণা, উচ্চহারের শুল্ক-কর এড়াতেই মিথ্যা ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সাগর সেন বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানটি আটক করা হয়েছে। আমদানিকারককে চিঠি দেওয়া হলেও এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।’
কাস্টমস সূত্র জানায়, গত ১০ জুলাই চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। প্রায় এক মাস পরও আমদানিকারক বিল অব এন্ট্রি দাখিল করেননি। পরে চালানটি নিলাম প্রক্রিয়ায় যায়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরীক্ষা করে ঘোষণার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ পণ্য পাওয়া যায়।
সাগর সেন বলেন, ‘আমদানিকারক বা অন্য কেউ পণ্যগুলো খালাস করতে চাইলে বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে প্রযোজ্য শুল্ক-কর ও জরিমানা পরিশোধ করতে হবে।’
কাস্টমস গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, একই প্রতিষ্ঠান এর আগে মোংলা বন্দর দিয়েও মিথ্যা ঘোষণায় বিলাসবহুল গাড়ির চালান আনার চেষ্টা করেছিল। এ ঘটনায় ক্রাউন অটোমোবাইল সার্ভিসেসের আমদানি কার্যক্রমে নজরদারি বাড়িয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।


