ফ্যাক্ট চেকের নামে আপত্তিকর, অসত্য দিয়ে সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা

ফ্যাক্ট চেকের নামে আপত্তিকর, অসত্য দিয়ে সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা
প্রতীকী ছবি
Advertisement
Advertisement

বিতর্কিত একটি বাংলাদেশি ফ্যাক্ট চেকার প্রতিষ্ঠান আমার একটি প্রতিবেদন নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর, অগ্রহণযোগ্য, অসত্য এবং অপেশাদার কাজ করে সাংবাদিক হিসেবে আমার সুনাম ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করেছে। নাম উল্লেখ করে তাদের ‍গুরুত্ব বাড়াতে চাই না। ফ্যাক্ট চেকের নামে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে যেসব অভিযোগ করেছে তার জবাব দেওয়া উচিত বলে মনে করি।

প্রথমে বলা দরকার প্রতিবেদনটি কী? গত ১১ সেপ্টেম্বর টাইমস অব বাংলাদেশে আমার বাইলাইনে একটি বিশদ প্রতিবেদন ছাপা হয়। প্রতিবেদনটি মোংলার জয়মনির ঘোল এলাকা থেকে ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় নিখোঁজ জেলে ও পেশাদার মোটরসাইকেলচালক মিরাজ শেখের ওপর।

আগ্রহীরা চাইলে পড়ে দেখতে পারেন: মিরাজ শেখ: গুম নাকি স্বেচ্ছায় আত্মগোপন?

দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়, মিরাজকে কোস্ট গার্ড সদস্যরা গুম করেছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে এটি হলো প্রথম গুমের খবর।

সে কারণেই বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিই। একজন মানুষকে তুলে নিয়ে যাবে এবং পাঁচ মাস কোনো খবর থাকবে না, তা হতে পারে না। প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে আমি একটি পদ্ধতি গ্রহণ করি। সেটি হলো, কীভাবে মিরাজের গুম বিষয়টি পরিবারের কাছে গেল সেটি বের করা। আমি সেই দুই ব্যক্তিকে বের করে দেখিয়েছি, মিরাজের গুম কেউ স্বচক্ষে দেখেনি। সবাই বলেছে, শুনেছে। এখন পর্যন্ত কোনো ভিডিও বা ছবি নেই।

অনুসন্ধান করতে গিয়ে ১১ আগস্ট মিরাজের মায়ের দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক জবানবন্দি পাই। সেটি তিনি পুলিশের উপস্থিতিতে কোস্ট গার্ডকে দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, সিভিল পোশাকে দুই কোস্ট গার্ড সদস্য তার ছেলেকে তুলে নিয়ে গেছে বলে শুনেছেন। তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জবানবন্দিতে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মিরাজের সঙ্গে ফারুক নামের এক স্থানীয় ব্যক্তির সঙ্গে টাকা-পয়সা নিয়ে ঝামেলা ছিল।

আমি জবানবন্দির ব্যাপারে ভুক্তভোগীর বোনকে জানতে চাইলে তিনি জানান, তারা জবানবন্দি দিয়েছেন সত্য, কিন্তু এটি তো গোপনীয়; আমি কীভাবে পেলাম। এটি নিয়ে আপত্তি তোলেন।

কীভাবে সেই গোপন জবানবন্দি পেলাম, সেই প্রশ্ন করা সাংবাদিকতা পেশার প্রতি হস্তক্ষেপের শামিল।

এ ছাড়া, নিখোঁজ হওয়ার ২০ মিনিট পর মিরাজ এক ডাকাত দলের প্রধানের সঙ্গে ছয় মিনিট কথা বলেন। আমি তার সঙ্গে কথা বলি। তিনি জানান, তার দলের হাতে ছয় অপহৃত জেলে পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা ছয় লাখ টাকা মিরাজের কাছে ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে কোনো ডাকাত অথবা অন্য কোনো গোষ্ঠী অথবা বাহিনী মিরাজকে অপহরণ করেছে কি না সে ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছি, কোনো উপসংহারে যাইনি।

আবার বলা হয়েছে, আমি নাকি মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটনের সঙ্গে কথা না বলে তাকে উদ্ধৃত করেছি। এটি অসত্য কথা। আমি তার সঙ্গে ২৭ আগস্ট ১২ মিনিট কথা বলেছি। ফ্যাক্ট চেকার তার বক্তব্যটি চেক করেননি। চেক করলে দেখতে পেতেন, আমি কথা বলেছি কি না।

সর্বোপরি ফ্যাক্ট চেকারকে পরিষ্কারভাবে বলি, তিনি যেন আমাকে উদ্ধৃত করতে পারবেন না। কিন্তু তিনি সেটি মানেননি। এটি কেমন ফ্যাক্ট চেকিং, কেমন পেশাদারত্ব?

যেভাবে অনুসন্ধান করেছি: কিছুটা বিস্তারিত ব্যাখ্যা

আমি ২৮ আগস্ট দুপুরের মধ্যে একটি নন-এসি বাসে করে মোংলা পৌঁছেছি। উদ্দেশ্য ছিল মিরাজ শেখের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সশরীরে কথা বলব। কারণ, তদন্তের ক্ষেত্রে মুখের ভাষার চেয়েও শারীরিক ভাষা, পারিপার্শ্বিক অবস্থা, চেহারা, কথা বলার ধরন ইত্যাদি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা দিয়ে ঘটনা বোঝা সহজ হয়; তদন্তের নতুন দিক উন্মোচিত হয়।

তার আগের দিন ২৭ আগস্ট ১১টা ৮ থেকে ৯ মিনিটের মধ্যে আমি মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটনকে তিনবার হোয়াটসঅ্যাপে কল করি। তিনি ধরতে পারেননি। সকাল ১১টা ২২ মিনিটে তার সঙ্গে আমার ১২ মিনিট কথা হয় মিরাজ শেখের বিষয়ে। তিনি বলেন, আমার ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করা উচিত।

সুতরাং নূর খানের সঙ্গে আমার কথা হয়নি বলে প্রতিবেদনে যা উল্লেখ করা হয়েছে, সে কথাটি সঠিক নয়। তিনি আমাকে চেনেন না বলেছেন। কিন্তু তার সঙ্গে বহুবার বিভিন্ন সভা-সেমিনার, আদালত, রাস্তা বিভিন্ন জায়গায় দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। পেশাগত সম্পর্ক প্রায় ২০ বছরের। ফটোগ্রাফার শহীদুল আলমের মামলা চলাকালে তার পাশে বসে আদালতে হেয়ারিং শুনেছি। মার্কিন সংবাদ সংস্থা ব্যানারনিউজে অসংখ্যবার তার নাম উল্লেখ করে সংবাদ লিখেছি।

২৮ আগস্ট মোংলায় গিয়ে বেলা ২টা ১১ মিনিটে আমি ভুক্তভোগীর বোনকে ফোন করি। আমি পরিচয় তুলে ধরে কথা বলি। জানাই নূর খানের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে এবং তিনি যদি আমার সম্পর্কে বাড়তি জানতে চান তাহলে নূর খান লিটনকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন। নূর খানের রেফারেন্স দেওয়ার কারণ, যাতে তিনি আমার সঙ্গে কথা বলার ব্যাপারে একটু ফ্রি হন।

প্রতিবেদনে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, নূর খান লিটনের কাছ থেকে তার নম্বর পেয়েছি, এই কথা সঠিক নয়। সাংবাদিক হিসেবে কারও নম্বর বের করা আমার কাছে কোনো কঠিন কিছু নয়।

তখন মিরাজের বোন জানান, তিনি ঢাকায় আছেন এবং শনিবার ঢাকা ত্যাগ করবেন। টেলিফোনে তিনি কিছুক্ষণ ধরে ঘটনা কী ঘটেছে সেটি জানান। আমি তাকে জানাই, আমি জয়মনির ঘোল এলাকায় যাচ্ছি। পরে আপনার সঙ্গে কথা বলব।

আরও পড়ুন

এরপর মোটরসাইকেলে করে জয়মনির ঘোল এলাকায় যাই। বাইক চালক (০১৭-৩৬৩৪) যিনি ছিলেন তিনি মিরাজকে চিনতেন এবং আমাকে কিছু স্থানীয় বিষয় সম্পর্কে জানান। সেখানে গিয়ে মিরাজদের পাড়ায় যাই, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সেখানে স্থানীয় লোকজনদের সঙ্গে কথা বলি। সেখান থেকে ফিরতে রাত হয়ে যায়।

ভুক্তভোগীর বোন বলেন, মিরাজের গুম হওয়ার খবর প্রথমে পরিবারকে জানান এক স্থানীয় বিএনপি নেতা। সেদিন সন্ধ্যায় জয়মনি বাজারে তার সঙ্গে কথা হয় আমার। তিনি জানান, ঘটনার সময় খুলনা ছিলেন। তাকে ঘটনা জানিয়েছেন এক নারী,  যিনি মিরাজকে গুম হতে দেখেছেন। সেই বিএনপি নেতা তার ছোট ভাইকে জানান এবং তার ছোট ভাই একটি ছোট ছেলেকে মিরাজদের বাসায় পাঠিয়ে মিরাজের মাকে খবরটি জানান।

২৯ আগস্ট আমি সেই নারীকে বের করে মোংলায় কথা বলি। এ ছাড়া, গুম হওয়ার ২০ মিনিট পরেও মিরাজ যার সঙ্গে কথা বলেন সেই ডাকাত সর্দারের সঙ্গে কথা বলি। প্রতিবেদন তৈরির জন্য সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে আমি একজনও পাইনি যিনি বলেছেন তিনি মিরাজকে গুম হতে দেখেছেন। সবাই জানিয়েছেন, তারা শুনেছেন।

আমি যে সব ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেছি তারা হলেন মূল তথ্যদাতা, ইংরেজিতে যাকে বলা হয় ‘কী ইনফরম্যান্ট’। ফ্যাক্ট চেকার প্রশ্ন তুলেছেন আমি কেন তাদের সঙ্গে কথা বললাম। উত্তর হচ্ছে, কোনো গবেষণা অথবা তদন্ত বা অনুসন্ধানে ‘কী ইনফরম্যান্ট’ যারা থাকেন তাদের সঙ্গেই কথা বলতে হয়। অন্যদের সঙ্গে কথা বলে কোনো লাভ নেই।

ফ্যাক্ট চেকার বলেছেন, আমার হাত বড়, লম্বা। ১১ আগস্ট ভুক্তভোগীর পরিবার পুলিশের উপস্থিতিতে কোস্ট গার্ডের কাছে যে জবানবন্দি দিয়েছেন, সেটি আমি কীভাবে পেলাম।

উল্লেখ্য, এই জবানবন্দিতে মিরাজের মা জানিয়েছেন, কোস্ট গার্ড তার ছেলেকে নিয়ে গেছেন বলে শুনেছেন, কিন্তু দেখেননি। মিরাজকে গুম করার ভিডিও আছে, কিন্তু কার কাছে আছে জানি না। তিনি বলেন, মিরাজের সঙ্গে স্থানীয় ফারুক নামের একজনের সঙ্গে টাকা-পয়সা নিয়ে ঝামেলা ছিল। আমি এই বিষয়টি উল্লেখ করে মিরাজের বোনকে প্রশ্ন করি, কোনো তৃতীয় পক্ষ এই কাজ করতে পারে কি না। তিনি বলেন, কোস্ট গার্ডই তার ভাইকে নিয়ে গেছে। তবে তিনি কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। আমি তাকে টেক্সট করে বলেছি, আপনি আমাকে একটি গ্রহণযোগ্য প্রমাণ দেন। আমি কোস্ট গার্ডকে ছাড়ব না, কিন্তু তিনি সেটি দিতে পারেননি। বলেছি কোস্ট গার্ডের কোনো কর্মকর্তা (সিসি) আপনাদের কাছে স্বীকার করেছেন যে তারা মিরাজকে নিয়ে গেছেন? সেই কর্মকর্তার নাম দেন, অথবা অডিও কলের ক্লিপ বা কোনো প্রমাণ দেন; কিন্তু তিনি দেননি বা দিতে পারেননি।

ফ্যাক্টচেকার তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, আমি মিরাজের বোনকে কেন বিভিন্ন প্রশ্ন করেছি।

সাংবাদিক হিসেবে এই প্রশ্ন করা কি আমার অন্যায়? মিরাজের বোনকে বিভিন্ন প্রশ্ন করা কি অন্যায়? আমার কাজ প্রশ্ন করা। আমি প্রশ্ন করব।

প্রতিবেদন ছাপা হওয়ার পর ফ্যাক্টচেকার আমাকে সালাম দিয়ে টেক্সট করেন। আমি তাকে চিনি না। আমি তাকে কল করলে নিজের পরিচয় তুলে ধরেন। তিনি আমাকে বলেন, আমি প্রতিবেদনে ১১ আগস্ট দেওয়া মিরাজের মায়ের জবানবন্দির কীভাবে পেলাম! এটা তো গোপনীয় বস্তু। একই কথা আমাকে ভুক্তভোগীর বোনও বলেছিল।

আমি তখন ফ্যাক্ট চেকার ভাইকে বলি, কোথায় পেয়েছি সেটা আপনাকে কেন বলব? একজন সাংবাদিক কাগজ কোথায় পাবে, সেটি বলতে বাধ্য নয়। আমি তাকে আরও বলি, প্রয়োজনে জেলে যাব, কিন্তু সোর্স বলব না। আমি যদি আপনার কাছে কিছু পাই তাহলে কি সেটা আরেকজনকে বলে দেব? তিনি একাধিকবার জানতে চেয়েছেন, গোপনীয় জিনিস কোথায় পেলাম। আমি তাকে বলি একজন সাংবাদিকের কাজ গোপনীয় জিনিস বের করা।

বললাম, আপনি কি আমাকে উদ্ধৃত করে লিখবেন? তখন তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি তাকে বলি, আপনি কোথাও আমাকে উদ্ধৃত করতে পারবেন না। আমি আপনাকে বিষয়টি বোঝার জন্য জানালাম।

আমি ধরে নিয়েছিলাম, তিনি পেশাদার আচরণ করবেন। কিন্তু সাংবাদিকদের পেশাদারত্ব শেখানো এই প্রতিষ্ঠান আমার কথা লিখে দিয়েছেন। এবং লিখেছেন অর্ধসত্য। মনে রাখবেন, অর্ধসত্য মিথ্যার চেয়েও ভয়ংকর।

এটা কী ধরনের ফ্যাক্ট চেকিং, পেশাদারত্ব? যে মানুষ এবং প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকতার মৌলিক একটি বিষয় সম্পর্কে কোনো দায়বদ্ধতা নেই তাদের কথা কীভাবে বিশ্বাস করবে মানুষ?

একজন ব্যক্তির সঙ্গে পুরো আলাপ কীভাবে সংক্ষেপ করে লিখতে হয়, সে ব্যাপারে লেখকের আরও প্রশিক্ষণ দরকার। প্রতিষ্ঠানটি যারা চালান, এ ব্যাপারে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করব।

আরেকটি কথা, আমি কোথা থেকে একটি কাগজ পেলাম, সেই প্রশ্ন কি উনি করতে পারেন? আমার পেশা গোপনীয় বিষয় বের করতে স্বাধীনতা দিয়েছে।

ফ্যাক্ট চেকিংয়ে বলা হয়েছে, আমার হাত লম্বা এবং সেই হাত দিয়ে মিরাজের মায়ের দেওয়া গোপনীয় জবানবন্দিটি পেয়েছি এবং তিনি এটিকে ‘কারসাজি’ বলেছেন। হাত লম্বা অর্থ হলো, আমার সোর্স ভালো, গ্রহণযোগ্যতা ভালো, মানুষ আমাকে বিশ্বাস করে।

আমি প্রশ্ন রাখতে চাই, আমার সোর্স ভালো–এটা কি অপরাধ? আমি মনে করি, এটা আমার যোগ্যতা। বাংলাদেশের কোনো সাংবাদিক যে কাগজটি পাননি, আমি সেটি পেয়েছি এবং সেখান থেকে একটি নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছি। এখানে ‘কারসাজির’ কি আছে? কোনো  কিছু লেখার আগে শব্দগুলো সম্পর্কে ভালো করে জানা উচিত।

আমি মনে করি সাংবাদিকদের কাজ গড্ডলিকা প্রবাহে গা না ভাসিয়ে স্রোতের বিপরীতে গিয়ে প্রতিষ্ঠিত ন্যারেটিভের বিরুদ্ধে কাজ করা। সারা জীবন তাই করেছি এবং ভবিষ্যতেও করে যাব।

আমার প্রতিবেদনকে কেউ পছন্দ না-ই করতে পারেন, প্রতিবেদন হয়নি বলতে পারেন। সেটি নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা আপত্তি নেই। অন্যদিকে প্রতিবেদনকে চমৎকার বলা পাঠকের সংখ্যাও কম নয়, সেটিও জানা দরকার।

যারা সাংবাদিকতার সবক দিচ্ছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলি, যে প্রশ্নগুলো তুলেছি সেগুলোর জবাব খুঁজুন। সেখান থেকে হয়তো মিরাজকে উদ্ধারের নতুন সূত্র মিলতে পারে। পক্ষপাতদুষ্ট বা একদেশদর্শী হয়ে তদন্ত করলে সঠিক তদন্ত হয় না সবসময়–আমার প্রতিবেদনে মূল কথা এটিই।

আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, একজন মানবাধিকার কর্মী, একজন ব্যারিস্টার বলছেন তদন্ত চলাকালে সাংবাদিকের কাছে জবানবন্দি যাওয়া অনৈতিক। তাদের কথা অনেকটা সরকারি পুলিশ, আর্মি বা অ্যাটর্নি জেনারেলের মতো শোনাচ্ছে। এই ধরনের কথা মানবাধিকার কর্মীরা আগে কখনো বলতেন না, ‍কিন্তু এখন বলছেন। একজন মানবাধিকার কর্মী যখন সাংবাদিকদের সত্য অনুসন্ধান করার ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তখন বুঝতে হয় তিনি আর মানবাধিকার কর্মী নেই, অন্য কিছু হয়েছেন।

আওয়ামী লীগ আমলে মানবাধিকার কর্মীরা আমেরিকা-ইউরোপ পালিয়ে জীবন বাঁচিয়েছেন। বাংলাদেশে মূল ধারার গণমাধ্যমসহ কোথাও মানবাধিকার শব্দটি উচ্চারিত হতো না, তখন আমি ব্যানারনিউজে মানবাধিকার নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছি। দেশে থেকে কাজ করেছি। ব্যানারনিউজ চেক করে দেখুন, বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন তুলে ধরার ক্ষেত্রে কামরান রেজা চৌধুরীর অবদান কতটুকু।

আগ্রহীদের জন্য বেনারনিউজের কিছু লিঙ্ক দিয়ে দিলাম যেখানে নূর খানকে উদ্ধৃত করে সংবাদ পরিবেশন করেছি।

Odhikar shut down: Govt creating ‘atmosphere of fear’ for human rights groups – Benar News

Bangladesh’s Escalated Anti-Drug Campaign Draws Fire from Rights Activists, Opposition – Benar News

Bangladesh sentences top human rights activists to prison amid outcry – Benar News

Bangladesh Police Brass Warns Officers Not to Abuse People – Benar News

Bangladesh Security Forces Involved in Abducting Opposition Figures: Amnesty – Benar News

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad