বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের একটি ফেসবুক পোস্টের প্রতিটি শব্দ ছিল দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ‘বক্তব্যের কারণে তাকে হত্যা করা হলেও তার মৃত্যু মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি করার পরিবর্তে প্রতিরোধের শক্তিকে আরও জোরালো করেছে। আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ড দেশের মানুষকে আগ্রাসী ও সম্প্রসারণবাদী শক্তির বিরুদ্ধে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ করেছে।’
আবরার ফাহাদের ৭ম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন বিএনপির এই নেতা।
বুধবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের অডিটোরিয়ামে ‘বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রনীতি: আধিপত্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য; এবং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা সুরক্ষার অঙ্গীকার’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
রিজভী বলেন, ফ্যাসিবাদের দমন-পীড়নের সময়ে দেশে একের পর এক আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ায় মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আবরার হত্যাকাণ্ডের পর গোটা জাতি যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তাতে বোঝা গেছে মানুষের ভেতরে প্রতিবাদের শক্তি তখনো বিদ্যমান ছিল।
আবরারের মৃত্যু ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আবরারের আত্মদানের চরম পরিণতির একটি পর্যায় ছিল ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন এবং ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগ।
এ সময় আবরার ফাহাদের বাবা মো. রহমত উল্লাহ বলেন, আবরার ফাহাদের অপরাধ ছিল দেশের স্বার্থবিরোধী বিভিন্ন চুক্তি ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখা। এ কারণে তাকে বুয়েটের হলে কয়েক ঘণ্টা নির্যাতন করে হত্যা করা হয়।
আবরার হত্যার সাত বছর পার হলেও বিচার দীর্ঘায়িত হওয়ায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ড ছিল পূর্বপরিকল্পিত—আদালতের রায়েও বিষয়টি উঠে এসেছে। আবরার হত্যার পর তৎকালীন বুয়েট কর্তৃপক্ষ জড়িত ছাত্রসংগঠনকে নিষিদ্ধ না করে পুরো ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিল, যা ফ্যাসিবাদী আচরণের প্রতিফলন।
তিনি বলেন, আবরারসহ বিভিন্ন ছাত্র ও রাজনৈতিক নেতার আত্মত্যাগ পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পথ তৈরি করেছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন।
আলোচনা সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, ঢাকা মহানগর শাখা, ঢাকা কলেজ শাখা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ শাখার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


