জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ট্রাকচালক মো. হোসেন হত্যা মামলায় আদালতে হাজির করার সময় হাতকড়া পেছনে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। লিফট চালু থাকা সত্ত্বেও তাকে সিঁড়ি দিয়ে ছয় তলা পর্যন্ত ওঠানো নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলমের আদালতে তিনি এসব বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পলক বলেন, ‘হাতকড়া পেছনে দিয়ে আমাকে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানো হয়েছে। আদালতের কাছে আমার অনুরোধ, হাতকড়া সামনে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পিপি সাহেবের বোঝা উচিত, তার ওই স্থান থেকে আমার এই স্থান বেশি দূরে নয়।’
পলক আরও বলেন, ‘ছয় তলা পর্যন্ত হেঁটে ওঠানো হয়েছে। মানবিক দিক বিবেচনা করে আমাদের হ্যান্ডকাফ সামনে পরানো হোক।’
আদালত থেকে নামার সময় লিফট নিয়ে প্রশ্ন তুলে পলক বলেন, ‘লিফট কি শুধু আমাদের জন্য বন্ধ?’
পলকের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি বলেন, লিফট চালু থাকা সত্ত্বেও পলকসহ অন্য আসামিদের সিঁড়ি দিয়ে আদালতে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দুটি লিফটের মধ্যে একটি চালু ছিল। তবুও তাদের হেঁটে নামানো হয়েছে। তাদের হাতে মরিচা ধরা হ্যান্ডকাফ ছিল। বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটও খুব নোংরা। এতে তারা অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন। বিষয়গুলো বিবেচনা করা উচিত।’
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী বেলাল হোসেন জানান, মামলার দুই আসামি সাজ্জাদ হোসেন ও নাইমুল হাসানের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুনানি থাকায় তাদের আদালতে হাজির করতে পারেনি কারা কর্তৃপক্ষ। এ কারণে আদালত পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এদিন কারাগারে থাকা আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলায় মোট ৩৪ আসামির মধ্যে ১০ জন কারাগারে আটক রয়েছেন। বাকি ২০ জন শুরু থেকেই পলাতক।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে নিহত হন ট্রাকচালক মো. হোসেন। সেদিন গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাসায় ফিরছিলেন তিনি। চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এ ঘটনায় ওই বছরের ৩১ আগস্ট নিহতের মা রীনা বেগম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক আকরামুজ্জামান ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানসহ আরও অনেকে।
আসামিদের মধ্যে পলক, সাদেক, ফুরকান ও শাহজাহান বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন।


