ভারতীয় নাগরিক রবিউল আবারও রিমান্ডে

ভারতীয় নাগরিক রবিউল আবারও রিমান্ডে
ভারতীয় নাগরিক রবিউল। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামের আবারও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১৭-এর বিচারক হাবিব উল্লাহ পিয়াস শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন।

গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা, অফিসিয়াল নথি ও নিষিদ্ধ তথ্য সংগ্রহ করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাচারের অভিযোগে করা মামলায় তাকে বৃহস্পতিবার আদালতে নিয়ে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের রমনা বিভাগের পরিদর্শক মো. নুর আলম এই আবেদন করেন।

এর আগে, ৫৪ ধারায় দুই দফায় আট দিন এবং গুপ্তচর ভিত্তিতে করা মামলায় সাত দিন সবমিলিয়ে তিন দফায় ১৫ দিন রিমান্ডে ছিলেন রবিউল।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন এবং হারুন অর রশিদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, আসামি ভারতের আসাম প্রদেশের নাগরিক। তিনি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের তথ্য সংগ্রহ করে তা বিভিন্ন দেশে পাচার করছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, আসামি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। অন্য আসামিদের কাছ থেকে যে তথ্য এক দিনে পাওয়া যায়, এ ধরনের আসামির কাছ থেকে ২১ দিন জিজ্ঞাসাবাদ করেও সেই তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, আসামিকে যারা সহযোগিতা করছে এবং বাংলাদেশের তথ্য সরবরাহে সহায়তা করছে, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এ কারণে আসামিকে আরও সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করার কারণে প্রথমে তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মামলা করা হয়। বাংলাদেশের কারা তাকে তথ্য দিচ্ছে, কারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তাকে সহযোগিতা করছে—এসব তথ্য উদ্ঘাটনে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুল মোমেন মিয়া রিমান্ড বাতিল করে আসামির জামিনের আবেদন করেন।

তিনি বলেন, আসামি বৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। এর আগে তিনি প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বার বাংলাদেশে এসেছেন। তার কাছ থেকে পুলিশ কোনো মাদক বা অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি। শুধু নামের গরমিলের কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ অবস্থায় তাকে আবারও রিমান্ডে নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাই রিমান্ড আবেদন বাতিল করে আসামিকে জামিন দেওয়া হোক।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, রবিউল ইসলামের বয়স ৪৪ বছর। তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মাটিয়া থানার গৌড়িভোজ গ্রামের বাসিন্দা। গত ১৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি। এরপর ১৫ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থান করেন।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২২ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর রোডের ৬০ নম্বর বাসার সামনে থেকে রবিউলকে আটক করা হয়। এ সময় তিনি নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে পাসপোর্ট দেখান।

তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, রবিউলের পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ড্রাইভিং লাইসেন্সে জন্মতারিখের গরমিল পাওয়া গেছে। পাসপোর্টে তার জন্মস্থান সৌদি আরবের রিয়াদ উল্লেখ রয়েছে। এর আগে একাধিকবার বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করলেও প্রতিবার বাংলাদেশে আসার সুনির্দিষ্ট কারণ তিনি জানাতে পারেননি বলে অভিযোগ পুলিশের।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad