কনসার্ট, বাউল গান, নাটক, সিনেমা প্রদর্শনী, নৌকাবাইচ ও পহেলা বৈশাখ উদযাপনসহ আইনসম্মত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বেআইনি বাধা, হুমকি ও সহিংসতা ঠেকাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। বুধবার রিটের বিষয়টি জানান রিটকারী আইনজীবী সাদ্দাম হোসেন অভি।
রিটে বলা হয়েছে, আইনসম্মত সাংস্কৃতিক, সংগীত, নাট্য, চলচ্চিত্র ও ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের ক্ষেত্রে অননুমোদিত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বেআইনি বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি, সহিংসতা, ভাঙচুর ও জবরদস্তি থেকে শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী, আয়োজক এবং দর্শকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা প্রয়োজন।
রিটে কনসার্ট, সংগীতানুষ্ঠান, লোকসংগীত, বাউল গান, নাটক, সিনেমা প্রদর্শনী, নৌকাবাইচ, পহেলা বৈশাখ উদযাপন এবং অন্যান্য শান্তিপূর্ণ সাংস্কৃতিক উৎসবের সুরক্ষার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর দেশে কনসার্ট, নাট্যানুষ্ঠান, যাত্রা, লোকসংগীত, বাউল গান, সিনেমা প্রদর্শনী ও পহেলা বৈশাখের মতো ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক আয়োজনে বাধা, হুমকি এবং জোরপূর্বক বন্ধের প্রতিবাদে চার সরকারি কর্মকর্তার কাছে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন সাদ্দাম হোসেন অভি। নোটিশটি পাঠানো হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে।
নোটিশে বলা হয়, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বাধীন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে হুমকি ও বেআইনি বাধার কারণে আয়োজন পণ্ড বা বাতিল হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
উদাহরণ হিসেবে নোটিশে ২০২৪ সালের আগস্টে কিশোরগঞ্জে স্থানীয় একটি গোষ্ঠীর আপত্তির মুখে কনসার্ট বাতিল, সিলেটের বিয়ানীবাজারে সুনাই নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি এবং ঢাকায় শিল্পী অনুপম রায়ের কনসার্ট শেষ মুহূর্তে স্থগিত হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করা হয়।
নোটিশে সংবিধানের ৩১, ৩২, ৩৭ ও ৩৯ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলা হয়, প্রতিটি নাগরিকের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা এবং মতপ্রকাশের মৌলিক অধিকার রয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, কোনো ব্যক্তি বা বেসরকারি গোষ্ঠীর আপত্তির কারণে রাষ্ট্র বা প্রশাসন এভাবে অনুষ্ঠান বাতিল বা বন্ধ করতে পারে না। নিরাপত্তাঝুঁকি থাকলে অনুষ্ঠান বাতিলের পরিবর্তে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা পুলিশের আইনি দায়িত্ব।


