দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের ৪১৮টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১। পূজামণ্ডপের ঝুঁকি ও গুরুত্ব বিবেচনায় গোয়েন্দা নজরদারি, মোটরসাইকেল টহল ও পিকআপ টহলের মাধ্যমে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো ও সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সার্বক্ষণিক তদারকি করছে বাহিনীর সাইবার মনিটরিং সেল।
শুক্রবার বিকালে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান এসআরবি-১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নেয়ামুল হালিম খান।
তিনি বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’—এই চেতনায় সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপন নিশ্চিত করতে এসআরবি-১-এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
মো. নেয়ামুল হালিম খান বলেন, পূজামণ্ডপগুলোর ঝুঁকি ও গুরুত্ব বিবেচনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা তিন স্তরে সাজানো হয়েছে। প্রথম স্তরে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরা নজরদারি করবেন। দ্বিতীয় স্তরে মোটরসাইকেল টহল এবং তৃতীয় স্তরে পিকআপ টহলের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবেন বাহিনীর সদস্যরা।
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো ও সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে অধিনায়ক বলেন, এসআরবির সাইবার মনিটরিং সেল সার্বক্ষণিক তদারকি করছে। পাশাপাশি উগ্রবাদী, চরমপন্থী ও স্বার্থান্বেষী কোনো গোষ্ঠী যাতে নাশকতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন,পূজাকালীন নিরাপত্তা, সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে গত ১২ অক্টোবর এসআরবি-১-এর ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা এবং উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
অধিনায়ক বলেন, বাংলাদেশে সবাই সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করেন। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে দুর্গাপূজা উদ্যাপনে পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটি ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
এ সময় কোনো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি চোখে পড়লে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
এসআরবি-১ জানায়, দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। উৎসব শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। যেকোনো সহিংসতা বা নাশকতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানায় বাহিনীটি।


