কানাডায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার পুণ্যলগ্ন শুরু হলো মহালয়া উদযাপনের মাধ্যমে। কানাডার ক্যালগেরিতে ক্যালগেরী বঙ্গীয় পরিষদ ধারাবাহিক ভাবে পঞ্চম বছরের মত নিবেদন করেছে গীতি-নৃত্য-আলেখ্য ‘মহিষাসুরমর্দিনী’।
আলেখ্যে পরিবেশিত গান, স্তবগীত ও নৃত্যের ফাঁকে ফাঁকে তুলে ধরা হয়েছে সনাতন ধর্মের আকর গ্রন্থ বেদ-উপনিষদ-পুরান থেকে প্রাসঙ্গিক নির্বাচিত কিছু বিষয় এবং শরৎকালীন দুর্গোৎসবের আদিকথা।
জগতে দু’টি বিরোধী শক্তি ক্রিয়াশীল। একটি জগতকে ধ্বংসের পথে, অকল্যাণের পথে নিয়ে যেতে চেষ্টা করে। অপরটি জগৎকে রক্ষা করে কল্যাণের পথে নিয়ে যায়। এই দুই শক্তির বিরোধ সততই চলছে মানুষের অন্তরে এবং বাহিরে। দুর্গাপূজা অপশক্তির বিরুদ্ধে শুভশক্তির বিজয়ে ভক্তিঅর্ঘ্য নিবেদন। তমসা থেকে জ্যোতিতে উত্তরণের প্রার্থনা।
বৈদিক সাহিত্যের শাশ্বত বাণী ধারণ করে এ বছরের গীতি-নৃত্য-আলেখ্য গ্রন্থিত হয়েছে। চিরন্তন আবেগময় আগমনী সুরে শারদোৎসবের পূর্ব-আবহ দর্শক-শ্রোতা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেছেন।
গ্রন্থনা করেছেন অধ্যাপক শেখর কুমার সান্যাল। উপস্থাপনায় ছিলেন মহুয়া চ্যাটার্জী ও বীণাপাণি মুখার্জী। স্তোত্র ও চণ্ডী পাঠ করেছেন শেখর সান্যাল ও রীতা কর্মকার। সংগীত পরিচালনায় ছিলেন রীতা কর্মকার।
নৃত্য পরিচালনা করেছেন চন্দ্রিমা ঐশী। কণ্ঠসংগীতে ছিলেন শাপলা রায়, মাধবী রায়, সুবর্ণশ্রী ঘোষ দত্ত, সুপ্রিয়া দে, রূম্পা সেনগুপ্তা, অপর্ণা দাস, গার্গী রায়, চম্পা সেন, চন্দ্রিমা ঐশী, শ্রাবস্তী নন্দী, সায়নী সাহা, পিয়া গায়েন, প্রজ্ঞা রায়, সুপর্ণা দাস, আদ্রিকা মুহুরী, জীবন দাস, খোকন সিকদার, পিনাক দে, রাতুল চক্রবর্তী, খোকন দেবনাথ এবং রীতা কর্মকার।
তবলা এবং মন্দিরায় ছিলেন সঞ্জয় মল্লিক এবং অজিত মুহুরী। শঙ্খধ্বনি করেছেন মৌসুমী ব্যানার্জী। কয়েকটি গানকে নৃত্যে রূপ দিয়েছে লিডিয়া সাহা, আর্যা তালুকদার, বৃন্দা দে ও প্রার্থনা দত্ত। শব্দ ব্যবস্থাপনায় খোকন দেবনাথ, তীর্থদীপ সান্যাল ও অরিন্দম তালুকদার।
বরাবরের মত এ বছর ও কানাডার ক্যালগেরিতে ‘ক্যালগেরি বঙ্গীয় পরিষদ’, ‘আমরা সবাই’ ও ‘বাংলাদেশ পূজা পরিষদ আলাদাভাবে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে শারদীয় দুর্গা উৎসব পালন করবে।


