মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকালে মাতৃশক্তির প্রতীক দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে আবাহনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। এদিন বেলতলায় দেবী বোধনের মাধ্যমে দুর্গোৎসবের আচার পর্ব শুরু হয়। ষষ্ঠীর সকালে ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা হবে এবং সন্ধ্যায় দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস।
এবার দুর্গা মর্ত্যে আসছেন ঘোড়ায়, যাবেন নৌকায়। হিন্দু শাস্ত্রমতে, মহালয়া, বোধন আর সন্ধিপূজা- এই তিন পর্ব মিলে দুর্গোৎসব। দশভূজা দেবী দুর্গা অসুর বধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতি শরতে কৈলাস ছেড়ে কন্যারূপে মর্ত্যলোকে আসেন। সন্তানদের নিয়ে ১৫ দিন বাপের বাড়ি কাটিয়ে আবার ফিরে যান দেবালয়ে। ষষ্ঠীতে বোধন। আর দশমীতে বিসর্জনে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও দেবীপক্ষের সমাপ্তি হবে পঞ্চদশ দিনে কোজাগরী পূর্ণিমায় লক্ষ্মীপূজার মধ্যে দিয়ে।
আশ্বিনের শুক্লপক্ষের এই ১৫ দিনই দেবীপক্ষ। গত শনিবার মহালয়ার দিনে মণ্ডপে-মণ্ডপে চণ্ডীপাঠ, মঙ্গলঘট স্থাপন, ঢাক-কাঁসা ও শঙ্খ বাজিয়ে দেবীকে আহ্বান জানিয়ে মহালয়ায় দেবীপক্ষের সূচনা হয়েছিল।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, অসুর শক্তির কাছে পরাভূত দেবতারা স্বর্গলোকচ্যুত হয়েছিলেন। তখন এই অশুভ শক্তিকে বিনাশ করতে দেবতারা এক হন। তাদের সবার শক্তি এক হয়ে পুঞ্জিভূত তেজরশ্মি থেকে আবির্ভূত হন এক মহাশক্তি। মহিষাসুরমর্দিনী দেবী দুর্গা।
অন্যদিকে ত্রেতাযুগে তিন অবতারের আবির্ভাবের সময় ভগবান রাম তার স্ত্রী সীতাকে উদ্ধার করতে অসুরবিনাশী দেবী দুর্গার ঘুম ভাঙান। তিনি শরৎকালে দেবীর আবাহন করেছিলেন বলে এ সময় দেবীর এ আগমন শারদীয় দুর্গাপূজা হিসেবে পালিত হয়। আর অসময়ে দুর্গাকে রাম জাগিয়ে তুলেছেন বলে একে দেবীর অকালবোধন বলা হয়। ব্রহ্মার নির্দেশ অনুযায়ী দুর্গার সাহায্যে রাবণ বধ করে সীতাকে উদ্ধার করেন তিনি।
আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠ দিনে মহাষষ্ঠী থেকে শুরু হয় দুর্গাপূজা। দশম দিনে বিজয়া দশমী পর্যন্ত দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা থাকে পাঁচ দিন। তবে এবার শনিবার ও পরদিন রোববার মহাসপ্তমী তিথি থাকায় এবার এ উৎসব চলবে ছয় দিন পর্যন্ত। আগামী সোমবার মহা অষ্টমী, মঙ্গলবার মহানবমী এবং বুধবার বিজয়া দশমিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব।


