চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) চলমান সংকটের মধ্যে আহ্বান করা সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সদস্য অংশ নেননি।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় অনলাইনে সভাটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সভায় অংশ নেওয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. জাহিদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সভার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম জানাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
সিন্ডিকেট সভার সভাপতি উপাচার্য শরীফুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে সভার কার্যক্রম ও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কিনা, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সিন্ডিকেটের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্বে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির দাবি করেছেন, তিনি আগেই রেজিস্ট্রার পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। ফলে সভার সদস্যসচিব হিসেবে তার বর্তমান অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
চুয়েটের স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রাশিদুল হাসান টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমি পরিবার-পরিজন নিয়ে বান্দরবানে অবস্থান করায় অনলাইন মিটিংয়ে যুক্ত হতে পারিনি। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজের মাধ্যমে জুম মিটিংয়ের লিংক দেওয়া হয়েছিল। তবে সিন্ডিকেট সভার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো আপডেট বা তথ্য আমার জানা নেই।’
তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অধ্যাপক মো. মোস্তফা কামাল তার মায়ের অসুস্থতার কারণে সভায় অংশ নিতে পারেননি।
এ ছাড়া গণিত বিভাগের অধ্যাপক সুনীল ধর, ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজির পরিচালক ইব্রাহিম খান এবং ইনস্টিটিউট অব রিভার, হারবার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের পরিচালক আসিফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
বহিরাগত সদস্যদের মধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. আয়নাল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকেও পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক মো. সেকান্দর চৌধুরীও সভায় অংশ নেননি।
এর আগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় একদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার সার্কিট হাউসে ফেরেন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। সেখানে ফিরেই শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় অনলাইনে সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন তিনি। তবে বার্তার মাধ্যমে সভা আহ্বানের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন সিন্ডিকেটের এক সদস্য। সাধারণত রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে সভার চিঠি পাঠানো হয় বলে জানিয়েছিলেন তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসাইন।
চুয়েটে উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে বিরোধের জেরে শিক্ষার্থীদের কমপ্লিট শাটডাউন এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অসহযোগ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষাসহ স্বাভাবিক শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সদস্যের অংশ না নেওয়ার ঘটনা চলমান প্রশাসনিক সংকটকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।


