সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে টেলিভিশন টকশোতে দেওয়া মন্তব্যের জেরে সমালোচনার মুখে পড়েছেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন। তার ‘এই পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক, তা আমি চাই না’ মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে তার পদত্যাগ ও সংসদ সদস্য পদ থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।
সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কামরুজ্জামান রতন দুঃখ প্রকাশ করেন। এর আগে সন্ধ্যায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন তিনি। সেখানে মন্তব্যটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বলে স্বীকার করেন।
বিবৃতিতে কামরুজ্জামান রতন বলেন, সম্প্রতি স্টার নিউজের একটি টকশোতে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদের ঘটনা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি আবেগবশত মন্তব্যটি করেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘আমার এই মন্তব্যটি করা একেবারেই ঠিক হয়নি এবং আমি তা পূর্ণাঙ্গভাবে প্রত্যাহার করছি। আমার এই মন্তব্যের মাধ্যমে নিহত ব্যক্তিদের পরিবার-পরিজন এবং আমাদের প্রবাসী ভাইবোনদের মনে যে কষ্ট ও আঘাত দিয়েছি, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং সবার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।’
তিনি আরও বলেন, ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ মহান আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত। ওই মন্তব্যের জন্য তিনি দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।
এদিকে, সংসদ সদস্যের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মুন্সিগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি শ. ম. কামাল হোসেন। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি কামরুজ্জামান রতনের পদত্যাগ এবং তাঁকে সংসদ সদস্য পদ থেকে অপসারণ করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।
কামাল হোসেন বলেন, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির এমন বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে এ ধরনের মন্তব্যে দেশবাসী ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, বিতর্কিত বক্তব্যের পর ক্ষমা চাওয়াই কি সবকিছুর সমাধান?
ফেসবুক পোস্টে কামাল হোসেন লেখেন, ‘আমরা দুঃখিত! আমরা লজ্জিত!’ কামরুজ্জামান রতনের বক্তব্যের জন্য মুন্সিগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে ক্ষমাও প্রার্থনা করেন তিনি।
এদিকে, কামরুজ্জামান রতনের বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। তাঁর সংসদ সদস্য পদে থাকার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। কেউ কেউ তাঁর পদত্যাগের দাবিও জানিয়েছেন। জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা নিয়ে আলোচনার মধ্যে সংসদ সদস্যের এমন মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ক্ষমা চাওয়ার পরও তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।


