কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ পর্যটকের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
মরদেহগুলো আগুনে মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এখন ডিএনএ পরীক্ষার ফলের অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনেরা।
সোমবার দুপুরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে তিন থেকে চার সপ্তাহ লাগতে পারে।
তিনি বলেন, রোববার হাসপাতালের হিমঘরে রাখা ১০টি মরদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে সন্ধ্যায় নমুনাগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে মরদেহের নমুনার সঙ্গে তাঁদের বাবা-মা, ভাই-বোন কিংবা সন্তানের মতো নিকটাত্মীয়দের নমুনা মিলিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিমন ঘোষ জানান, পরীক্ষার জন্য নমুনাগুলো ঢাকার মালিবাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
রিমন ঘোষ বলেন, মরদেহ থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। দ্রুত প্রক্রিয়াটি শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতাও প্রয়োজন।
এ ঘটনায় ঢাকার বাসিন্দা রিয়াজ মাহমুদ রিপনের পরিবারের ছয় সদস্য নিহত হয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তাদের পরিবারের চার সদস্য ইতোমধ্যে মালিবাগের সিআইডি কার্যালয়ে নমুনা দিয়েছেন। দ্রুত পরীক্ষার মাধ্যমে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে, স্ত্রী নাসরিন আক্তার মুক্তার মরদেহের অপেক্ষায় দুই দিন ধরে কক্সবাজারে রয়েছেন তাঁর স্বামী ফয়সাল দেওয়ান।
তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে পরিচয় শনাক্তে প্রায় এক মাস লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত প্রক্রিয়াটি শেষ করা।
ফয়সাল বলেন, ‘আমি জানি, আমার স্ত্রী নাসরিন আক্তার মুক্তাকে আর ফিরে পাব না। কিন্তু আমি চাই না, আর কোনো স্বামীকে এভাবে স্ত্রী হারাতে হোক। আর কোনো পরিবারকে প্রিয়জনের মরদেহের খোঁজে হাসপাতালে ছুটতে হোক।’
প্রসঙ্গত, ১৭ অক্টোবর সকালে উখিয়ার ইনানী পাটুয়ারটেক এলাকায় মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন টুপটুপ রেস্তো এন্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটক নিহত হন। এ ঘটনায় অধিকতর তদন্তে জেলা প্রশাসনের গঠন করা সাত সদস্যের কমিটি কাজ করছে।


