পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের দেড় দশকসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ৭৭টি মামলায় গত দুই বছরে সাড়ে পাঁচ শতাধিক আসামি বিচারের আওতায় এসেছেন। তবে, তাদের মধ্যে ৩৫২ জনই এখনো পলাতক।
দুই ট্রাইব্যুনালে সাতটি মামলার রায় হয়েছে, ২৬টি বিচারাধীন এবং বাকি মামলাগুলোতে তদন্ত চলছে। বিচার প্রক্রিয়ার মন্থর গতির পাশাপাশি আসামিদের বড় একটি অংশের অবস্থান শনাক্ত করা না যাওয়ায় রায় ঘোষণার পরও দণ্ড কার্যকর করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, একই ব্যক্তি একাধিক মামলায় আসামি হলেও তাকে প্রতিটি মামলায় আলাদাভাবে গণনা করা হয়েছে। ফলে ৫৫৫ জন আসামির সংখ্যা স্বতন্ত্র ব্যক্তির মোট সংখ্যা নয়।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতটি মামলায় ৬৮ জনকে সাজা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসামি পলাতক। অনেকের অবস্থান এখনো শনাক্ত করা যায়নি। সর্বশেষ ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যে সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়, তারা সবাই পলাতক।
দুই ট্রাইব্যুনালে রায় হওয়া সাতটি মামলায় মোট ৬৮ জন আসামির মধ্যে ২০ জন গ্রেপ্তার এবং ৪৮ জন পলাতক রয়েছেন। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, এসব মামলায় ২৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ২০ জন পলাতক এবং তিনজন গ্রেপ্তার। এ ছাড়া ৪৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অন্যান্য সাজা দেওয়া হয়েছে।
পলাতক আসামিদের তালিকায় রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ, বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক এম খুরশিদ হোসেন এবং মো. হারুন অর রশিদ। এ ছাড়া সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরাও রয়েছেন।
গুমের দুটি মামলাতেও আসামিদের বড় অংশ পলাতক। ওই দুই মামলায় মোট ৩০ আসামির মধ্যে ১৭ জনকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি।
রায় হলেও আসামিরা অধরা
সাতটি মামলার রায় ঘোষণার বাইরে আরও কয়েকটি মামলার বিচারপ্রক্রিয়া এমন পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে আসামিদের অনুপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কুষ্টিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা একটি মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে যে কোনো দিন রায় ঘোষণা করা হতে পারে। ওই মামলার সব আসামিই পলাতক।
নারায়ণগঞ্জে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির সবাই পলাতক বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করা না গেলে তাদের বিরুদ্ধে ঘোষিত সাজা কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, বিচার চলাকালে আসামি গ্রেপ্তারের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থার ওপরও থাকে। তদন্তাধীন অবস্থায় প্রসিকিউশন বিভিন্ন সময়ে আসামি গ্রেপ্তার করে। তবে রায় ঘোষণার পর গ্রেপ্তারের দায়িত্ব সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর বর্তায়। এ পর্যায়ে প্রসিকিউশনের পক্ষে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয় না।
প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম টাইমসকে বলেন, রায় কার্যকর করা সরকারের দায়িত্ব। আসামি গ্রেপ্তার না হলে রায় কার্যকর করা যায় না। রায়ের পরও আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে হতাশা তৈরি হয় এবং বিচারের উদ্দেশ্যও কিছুটা ব্যাহত হয়।
তবে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পুরোপুরি দায়ী করা যায় না বলে মনে করেন এই প্রসিকিউটর। তার ভাষ্য, অনেক আসামি একাধিক পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশের বাইরে চলে যান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের অনেকে আত্মগোপনে চলে যান। পরে তাদের কেউ কেউ দেশ ছাড়েন। ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর তাদের অনেকের আর সন্ধান পাওয়া যায়নি। একই সময়ে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও অধিকাংশ আসামি এখনো অধরা।
ফলে ট্রাইব্যুনালে বিচার ও দণ্ড ঘোষণার প্রক্রিয়া এগোলেও দণ্ডিতদের বড় একটি অংশ দেশের বাইরে অথবা অজ্ঞাত স্থানে থাকায় রায় কার্যকরের বিষয়টি অনিশ্চিত রয়ে গেছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় বিচার শেষ হওয়ার পর মামলাগুলোর পরিণতি নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
বাড়ছে মামলা, বাড়েনি ট্রাইব্যুনাল
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সারা দেশে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ঘটে। জাতিসংঘের হিসাবে, ওই সময় নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০; আহত হন কয়েক হাজার মানুষ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়।
জুলাই হত্যাকাণ্ডসহ আওয়ামী লীগের আমলের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারকে চেয়ারম্যান করে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
মামলার সংখ্যা বাড়তে থাকায় ২০২৫ সালের ৮ মে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গঠন করা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে গুম, হত্যা ও নির্যাতনের কিছু ঘটনার বিচারও এখন এই দুই ট্রাইব্যুনালে চলছে। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পুনর্গঠনের দুই বছর পূর্ণ হয়েছে।
এর আগে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। ওই ট্রাইব্যুনালে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর একাধিক নেতাসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড ও অন্যান্য মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।
বর্তমানে দুই ট্রাইব্যুনালে মামলার চাপ ক্রমেই বাড়ছে। তদন্তের জন্য বাছাই করা হয়েছে অর্ধশতাধিক অভিযোগ। এর বাইরে প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থার কাছে জমা রয়েছে কয়েকশ অভিযোগ। সেগুলোর তদন্ত শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হলে মামলার সংখ্যা আরও বাড়বে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একটি মামলা নিষ্পত্তি করতেই কয়েক মাস সময় লাগছে। ফলে মামলার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিচার শেষ হওয়ার অপেক্ষাও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে জুলাই হত্যাকাণ্ডে শহীদদের পরিবার, আহত জুলাই যোদ্ধা এবং অন্যান্য ভুক্তভোগীরা দ্রুত বিচার চান।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, মামলার সংখ্যা বিবেচনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানো জরুরি। বর্তমান ও সাবেক চিফ প্রসিকিউটরও এ বিষয়ে একমত।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত ১৪ জুলাই জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বলেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা, প্রসিকিউটর, তদন্ত কর্মকর্তা এবং লজিস্টিক সহায়তা বাড়ানো হবে। তবে এরপর কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়েনি।
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম টাইমসকে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সংঘটিত আরও অনেক ঘটনার বিচার ট্রাইব্যুনালে হতে পারে। ফলে মামলার সংখ্যা আরও বাড়বে।
তার হিসাব অনুযায়ী, একটি মামলার বিচার শেষ করতে তিন থেকে পাঁচ মাস পর্যন্ত সময় লাগছে। বর্তমানে যত মামলা রয়েছে এবং সামনে আরও মামলা আসার সম্ভাবনা থাকায় দুই ট্রাইব্যুনালের ওপর চাপ বাড়বে।
আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন চার-পাঁচটি মামলার বিচার চলছে। একটি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চললে একই সময়ে অন্য মামলায় তা করা সম্ভব হয় না। এ কারণেই বিচারপ্রক্রিয়ায় সময় লাগছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনাল, প্রসিকিউশন দলের সদস্য এবং তদন্ত কর্মকর্তার সংখ্যা বাড়াতে হবে।
সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামও মনে করেন, বর্তমান সক্ষমতা দিয়ে মামলার এই চাপ সামলানো কঠিন।
তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টে প্রাণ উৎসর্গকারীদের পরিবার ও আহত ব্যক্তিরা দ্রুত বিচার দেখতে চান। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও বিচার পরিচালনার জন্য বিদ্যমান ট্রাইব্যুনাল, প্রসিকিউশন এবং তদন্ত সংস্থার জনবল ও অবকাঠামো পর্যাপ্ত নয়। মামলার সংখ্যা যেভাবে বেড়েছে, সেই অনুপাতে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যাও বাড়ানো উচিত। কারণ, ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর আপিল নিষ্পত্তিতেও সময় লাগবে।
তাজুল ইসলাম টাইমসকে বলেন, বিদ্যমান ট্রাইব্যুনাল ও তদন্ত সংস্থার সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে বিচারপ্রক্রিয়ার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর হয়ে গেছে। বিচার দ্রুত করতে প্রয়োজনীয় জনবল ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
একাধিক প্রসিকিউটর জানান, মামলার চাপের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় লোকবল ও লজিস্টিক সহায়তার ঘাটতি এবং সংশ্লিষ্টদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতাও বিচারপ্রক্রিয়ার গতিকে প্রভাবিত করছে।
গুমের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়নি
বিচারপ্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি সময় লাগছে গুমসংক্রান্ত কয়েকটি মামলায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) পরিচালিত জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গুমের অভিযোগে করা দুটি মামলায় গত বছরের ডিসেম্বরে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়।
এরপর ১০ মাসের বেশি সময় পার হলেও ওই দুই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়নি। এসব মামলায় বেসামরিক ব্যক্তিদের পাশাপাশি বর্তমান ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তারাও আসামি হয়েছেন।
শতাধিক মানুষকে গুম, হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গত ১৪ জানুয়ারি অভিযোগ গঠন করা হয়। এই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি গ্রহণ সম্প্রতি শেষ হয়েছে।
বিচারের ধীরগতির অভিযোগের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালে একসঙ্গে বেশ কয়েকটি মামলার বিচার চলছে এবং প্রসিকিউশন ধারাবাহিকভাবে কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।
গুমের দুই মামলায় ২৮ আসামির পক্ষে আইনজীবীরা আলাদাভাবে প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের জেরা করায় বেশি সময় লাগছে বলে জানান তিনি।
বিচার বিলম্বে ভুক্তভোগীদের উদ্বেগ
ট্রাইব্যুনালের বিচারাধীন মামলাগুলোর গতি নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। ২৩ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে নিহত মেহেদী হাসানের মা পারভীন আক্তার নিজের ছেলেসহ সব জুলাই শহীদের হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি আমাদের সন্তানের হত্যার কোনো বিচার হচ্ছে না। সন্তানরা জীবন দিয়ে কী অপরাধ করেছে?’
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে দেশ-বিদেশে নানা ধরনের প্রচার ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতি তাদের উদ্বেগ আরও বাড়াচ্ছে।
গুম ও নির্যাতনের শিকার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসিনুর রহমানও বিচারপ্রক্রিয়ার গতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
তিনি টাইমসকে বলেন, ট্রাইব্যুনালে মামলার বিচার অত্যন্ত মন্থর গতিতে এগোচ্ছে। যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে বিচার শেষ করতে সরকারের মনোযোগ দেওয়া দরকার। এ জন্য ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা এবং তদন্ত সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। দক্ষ লোকবল ও পর্যাপ্ত লজিস্টিক সুবিধা না থাকলে সংবেদনশীল মামলার তদন্ত ভালোভাবে করা কঠিন হবে।
জুলাই গণহত্যার বিচারপ্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই এবং মামলা নিয়ে বাণিজ্য চলছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। তার দাবি, আহত ব্যক্তি ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা মামলার জটিলতা, সাক্ষীর সংকট এবং বাণিজ্যের শিকার হচ্ছেন।
মঙ্গলবার রাজধানীতে এনসিপির কার্যালয়ে এক আলোচনা সভায় হাসনাত বলেন, ‘বিচারকাজ সরকারের কাছে দায়সারা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপির মুখে জুলাই, অন্তরে আওয়ামী লীগ।’
আরও পড়ুন: ‘শেখ হাসিনার আমলে রাষ্ট্রীয়ভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়েছে’


