২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু আপিল করেছেন।
বুধবার ইনুর আইনজীবী সিফাত মাহমুদ এ তথ্য জানিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় তিনি আপিল করেন।
এর আগে ৫ অক্টোবর ইনুর অপর্যাপ্ত সাজার বিরুদ্ধে আপিল করে প্রসিকিউশন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা বাড়িয়ে ইনুর মৃত্যুদণ্ড চেয়ে চিফ প্রসিকিউটর আপিল করেন।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত ৩০ জুন ইনুকে তিনটি অভিযোগে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি প্রমাণিত হয় বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। বাকি পাঁচটি অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়। তিনটি অভিযোগে ১০ বছর করে মোট ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও সাজাগুলো একসঙ্গে চলবে। ফলে তাকে মোট ১০ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। ১৬ সেপ্টেম্বর সেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়।
মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয় তদন্তের মাধ্যমে। গত বছরের ২৫ মার্চ তদন্ত শুরু করে তদন্ত সংস্থা। ১১ সেপ্টেম্বর তারা প্রসিকিউশনের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর একই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে ইনুর বিরুদ্ধে আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিল করে। শুনানি শেষে সেদিনই আদালত অভিযোগগুলো আমলে নেয়। পরে ২ নভেম্বর আটটি অভিযোগ গঠন করা হয়।
গত বছরের ১ ডিসেম্বর মামলায় প্রসিকিউশনের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ প্রসিকিউশনের পক্ষে মোট ১০ জন সাক্ষ্য দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী, দুজন বিশেষজ্ঞ সাক্ষী, একজন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য এবং জব্দ তালিকার দুজন সাক্ষী।
আসামিপক্ষের পক্ষে দুজন সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। চলতি বছরের ১৪ মে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখে ট্রাইব্যুনাল।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা ইনু দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে কুষ্টিয়ার নিজ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে তিনি পরাজিত হন।


