সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যার ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ। এই হত্যাকাণ্ডকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের সত্য জানার অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত বলে মন্তব্য করেছে সংগঠনটি।
সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সই করা এক বিবৃতিতে বলা হয়, এটি কেবল একজন মানুষকে হত্যা করা নয়, বরং গণতন্ত্রের ওপরও বড় আঘাত। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলেও মনে করে সম্পাদক পরিষদ।
বিবৃতিতে এই হত্যাকাণ্ডের একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্ত এবং ঘটনার সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত সবাইকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে কঠিন শাস্তির দাবি জানায় সম্পাদক পরিষদ।
পরিষদ বলে, এই হত্যাকাণ্ডটি কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত শত্রুতা, সাংবাদিকতা সংক্রান্ত কোন্দল নাকি পুরোনো কোনো শত্রুতার কারণে ঘটেছে—তদন্তকারীদের তা ভালোভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ যাই হোক না কেন, গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালাতে হবে। অভিযুক্তদের রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক ক্ষমতা বা প্রভাব যেন কাউকেই আইনের হাত থেকে বাঁচাতে না পারে।
পরিষদ আরও উল্লেখ করে, কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিও যদি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকে, তাকেও বিচার থেকে ছাড় দেওয়া যাবে না। সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলে, এই ঘটনার উপযুক্ত বিচার না হলে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের ওপর সাধারণ মানুষের বিশ্বাস পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে।
সাংবাদিকদের সুরক্ষায় অবিলম্বে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ।
বিবৃতিতে বলা হয়, সত্য বের হওয়া ঠেকাতে সাংবাদিকদের ভয় দেখানো, তাদের ওপর হামলা বা হত্যা করা যাবে না। স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য সব গণতান্ত্রিক শক্তি, সুশীল সমাজ ও সংশ্লিষ্ট সকলকে এক হয়ে কাজ করার অনুরোধ জানানো হয়।
সম্পাদক পরিষদ জানায়, লুৎফুজ্জামান ফকির হত্যার বিচার করে অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে। একই সাথে সাংবাদিক হত্যার পর পার পেয়ে যাওয়ার যে সংস্কৃতি চলে আসছে, তা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটি বলে, সত্য তুলে ধরার পথ বন্ধ করার কোনো চেষ্টা সহ্য করা হবে না।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার তেলঞ্জিয়া এলাকায় একটি রাস্তার পাশের চা দোকানে বসে থাকা অবস্থায় দুর্বৃত্তরা সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফকে গুলি করে হত্যা করে।
ঘটনার পর শুক্রবার রাতে তার স্ত্রী অনিন্দিতা সাংমা ৭ থেকে ৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।


