রাজধানীর ভাটারার পুলিশ হাউজিং-১ এলাকায় পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের বাড়িতে ডিজে পার্টির আয়োজন করা হতো। বাড়িটির পাঁচটি কক্ষ অনলাইনে ভাড়া দেওয়া হতো। এসব পার্টিতে হাইপ্রোফাইল তরুণী ও ভিআইপিরা অংশ নিতেন বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।
সোমবার রাতে ওই বাড়িতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ৮৪ জন তরুণ-তরুণী আটক হন। তাদের মধ্যে ২৬ জন নারী ও ৫৮ জন পুরুষ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে এক পুলিশ কর্মকর্তার দুই মেয়ে, বিদেশি নাগরিক ও একটি বাহিনীর একজন কর্মকর্তাও রয়েছেন। অভিযানকালে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ, গাঁজা, ইয়াবা, কনডম ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাড়ে ছয় কাঠা জমির ওপর নির্মিত তিনতলা বাড়িটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এয়ারবিএনবির মাধ্যমে ভাড়া দেওয়া হতো। দেশি-বিদেশি ব্যক্তিরা বাড়িটি ভাড়া নিয়ে রাত্রিযাপন ও পার্টি করতেন। বাড়িটি দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন মাহাবুব আলম নামে এক কো-হোস্ট।
ডিবি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মাহাবুব বাড়ি ভাড়া ও আয় ভাগাভাগির বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পাঁচটি কক্ষের প্রতিটি ১০ জনের জন্য ১৮ হাজার ৫০০ টাকায় ভাড়া দেওয়া হতো। ১০ জনের বেশি হলে অতিরিক্ত প্রত্যেকের কাছ থেকে ৬০০ টাকা নেওয়া হতো। ভাড়ার টাকা আব্দুল্লাহ আল জহিরের ব্যাংক হিসাবে জমা হতো। এর ৭০ শতাংশ পেতেন জহির, বাকি ৩০ শতাংশ পেতেন মাহাবুব।
ডিবির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির বলেন, কো-হোস্টের তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটিতে অনলাইনে বুকিং নেওয়া হতো। দুপুর ১২টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা বা ১১টা পর্যন্ত পার্টি চলত। মাসে ১৮ থেকে ২০টি আয়োজন হতো। প্রতিটি আয়োজন থেকে প্রায় এক লাখ টাকা ভাড়া আদায় করা হতো।
ডিবির উত্তরা বিভাগের এক কর্মকর্তা টাইমসকে বলেন, হাইপ্রোফাইল তরুণী ছাড়াও অনেক ভিআইপি ওই বাড়ির পার্টিতে অংশ নিতেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এর আগে সেখানে একাধিক পার্টিতে পুলিশের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অংশ নিয়েছেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, সোমবার রাতে পারুল নামে এক নারী পুলিশি নিরাপত্তা থাকার কথা বলে ডিজে পার্টির বুকিং দেন। পরে সেখানে অন্যদের জড়ো করা হয়।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। তিনি ২৪তম বিসিএসের কর্মকর্তা। এর আগে অতিরিক্ত আইজিপি মোখলেছুর রহমানের স্টাফ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। ওই এলাকায় সাড়ে ছয় কাঠা জমি কেনার অর্থের উৎসও তদন্ত করা হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল্লাহ আল জহির বলেন, ‘জন্মদিনের পার্টির কথা বলে বাড়িটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা যে এ ধরনের কাজ করবে বা মদ আনবে, সেটা তো আমি জানতাম না। আমি অনলাইনে বাড়িটি ভাড়া দিয়ে থাকি এবং সেখানে কিছু কঠোর নিয়মও আছে। সেখানে কোনো অবৈধ কাজ হয়ে থাকলে তার দায় এড়ানোর সুযোগ আমার নেই।’


