কক্সবাজারের টেকনাফে মিয়ানমার সীমান্তে আলাদা অভিযানে ৪ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবা ও মাদক পাচারে ব্যবহৃত একটি পিকআপ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। দুই অভিযানে উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
এসব ঘটনায় একজন চিহ্নিত মাদককারবারি ও এক রোহিঙ্গাসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিজিবির ৬৪ ব্যাটালিয়ন সদরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম।
বিজিবি অধিনায়ক জানান, সোমবার রাত আটটার দিকে টেকনাফের মৌলভীবাজার এলাকা থেকে চট্টগ্রামগামী একটি ডাবল কেবিন পিকআপ হোয়াইক্যং তল্লাশিচৌকির কাছে পৌঁছালে কর্তব্যরত বিজিবি সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে পিকআপটি তল্লাশি করে পেছনের আসনের আবরণের নিচে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ১ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়। এ সময় পিকআপের চালক মো. সাইফুল ইসলামকে (৩১) আটক করা হয়। তিনি চট্টগ্রামের ডবলমুরিংয়ের হোসাইন ডাঙ্গা এলাকার মো. নুরুল ইসলামের ছেলে। এ অভিযানে মাদক পাচারে ব্যবহৃত পিকআপ ও একটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়।
একই দিন রাত নয়টার দিকে আরেকটি অভিযান চালায় বিজিবি। অধিনায়ক জানান, পালংখালী সীমান্ত ফাঁড়ির বিশেষ টহল দল টেকনাফের সীমান্তবর্তী উলুবুনিয়া মাঝের কাঠি এলাকায় মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে থাকা তিন ব্যক্তিকে দেখতে পায়। বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ধাওয়া করে তিনজনকে আটক করা হয়। তাদের তল্লাশি করে খাকি রঙের প্যাকেটে মোড়ানো নীল রঙের ৩৪ কার্টনে ৩ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়।
আটক তিনজন হলেন হোয়াইক্যংয়ের কাটাখালী এলাকার শাকিল (২২), রাসেল (২৩) এবং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির-৪-এর খাইরুল আমিন (২৪)।
অভিযানের বিষয়ে বিজিবি অধিনায়ক বলেন, ‘মাদক কারবারিরা যত বড় চক্রের সদস্য হোক কিংবা যত অভিনব কৌশলই অবলম্বন করুক না কেন, মাদক চোরাচালান শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বিজিবি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’
তিনি টেকনাফ ও উখিয়া এলাকায় মাদক চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে বিজিবিকে সহায়তা করার আহ্বান জানান।
বিজিবি জানায়, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করে টেকনাফ থানায় সোপর্দ করা হবে।


