মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ কল্যাণের কাছে বকেয়া ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি কর আদায়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।
আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। ফলে আপাতত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা কর পরিশোধ করতে হচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটিকে।
গ্রামীণ কল্যাণের আবেদনের শুনানি শেষে চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন। আগামী ১৩ ডিসেম্বর শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন।
গত ১০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ গ্রামীণ কল্যাণের দুটি রিট খারিজ করে রায় দেন। রিট দুটি ছিল আয়কর পুনর্নির্ধারণ করে এনবিআরের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে।
এর আগে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ এ বিষয়ে করা রিট খারিজ করেন। পরে ওই রায় প্রত্যাহার করা হয়। কারণ হিসেবে জানানো হয়, বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারক একসময় এসব মামলায় সরকারের পক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপর মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। পরে শুনানির জন্য মামলাগুলো নতুন বেঞ্চে পাঠানো হয়।
পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষ পর্যন্ত পাঁচ করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে কর দাবি করে এনবিআর। দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি পৃথক দুটি রিট করে। ২০২৪ সালে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, পাঁচ করবর্ষে গ্রামীণ কল্যাণের কাছে ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি কর পাওনা রয়েছে।
হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক আবেদন গত ১৪ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান ছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ২০২৪ সাল থেকে তিনি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত নন বলে জানা গেছে।


