ফুডপান্ডা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চার মামলার কার্যক্রম স্থগিত

ফুডপান্ডা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চার মামলার কার্যক্রম স্থগিত
Advertisement
Advertisement

সাবেক এক সরবরাহকারীর সঙ্গে বাণিজ্যিক বিরোধের জেরে ফুডপান্ডা বাংলাদেশের পাঁচ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে করা চারটি ফৌজদারি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। অন্যদিকে, ফুডপান্ডার সহযোগী প্রতিষ্ঠানের করা পৃথক চেক প্রত্যাখ্যানের মামলায় ওই সরবরাহকারীকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রোববার বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি মো. আশিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন মামলাগুলোর কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করেন।

এর আগে গত সপ্তাহে নিম্ন আদালত থেকে নিয়মিত জামিন পান সংশ্লিষ্ট পাঁচ কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে রয়েছেন ফুডপান্ডার সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আম্বারীন রেজা এবং জুবায়ের বি এ সিদ্দিকী।

মামলাগুলোর বাদী আইপিএলই ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের মালিক মো. শিহাব মাহমুদ বশির। ফুডপান্ডার সহযোগী প্রতিষ্ঠান ডেলিভারি হিরো স্টোরস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের সঙ্গে বাণিজ্যিক বিরোধের জেরে ২০২৫ সালে তিনি মামলাগুলো করেন।

ডেলিভারি হিরো স্টোরস পান্ডামার্ট পরিচালনা করে। মামলাগুলোতে প্রতারণা, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ এবং সরবরাহকারীর কাছে ফেরত দেওয়া পণ্যের হিসাব সমন্বয় নিয়ে অভিযোগ রয়েছে।

ফুডপান্ডার দাবি, বকেয়া অর্থ আদায়ের উদ্যোগের প্রতিশোধ হিসেবে এসব মামলা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, বিরোধটি মূলত বাণিজ্যিক লেনদেন ও হিসাব সমন্বয়সংক্রান্ত, যার নিষ্পত্তি চুক্তি ও দেওয়ানি আইনের আওতায় হওয়া উচিত।

আরও পড়ুন

তবে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ মামলাগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নয়। পরবর্তী বিচারিক নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।

এদিকে, ১১ অক্টোবর ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম আদালত চেক প্রত্যাখ্যানের একটি মামলায় শিহাব বশিরকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন।

ডেলিভারি হিরো স্টোরসের করা তিনটি চেক প্রত্যাখ্যানের মামলার একটিতে ১৮৮১ সালের হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইনের আওতায় এ রায় দেওয়া হয়।

বিরোধের সূত্রপাত ২০২২ সালে। ওই বছর বশিরের প্রতিষ্ঠান আইপিএলই ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক পান্ডামার্টের সরবরাহকারী হিসেবে কাজ শুরু করে। ডেলিভারি হিরো স্টোরসের দাবি, পণ্য সরবরাহে ধারাবাহিক সমস্যার কারণে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বাতিল করা হয়। এরপর বকেয়া পাওনা নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়।

প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, পাওনার একটি অংশ মওকুফের পর অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধে সম্মত হন বশির। এ জন্য তিনি তিনটি চেক দিলেও হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় সেগুলো একাধিকবার প্রত্যাখ্যাত হয়।

আইনি নোটিশের পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করায় ডেলিভারি হিরো স্টোরস ২০২৫ সালে হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইনের ১৩৮ ধারায় তিনটি পৃথক মামলা করে। এর মধ্যে একটির রায় হয়েছে, অন্য দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

হাইকোর্টে চার মামলার অভিযোগের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি বাকি রয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad