২০১২ সালে পুরান ঢাকায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাসকে কুপিয়ে হত্যার মামলায় আপিল শুনানির জন্য ৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত শুনানির এই তারিখ নির্ধারণ করে।
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এ তথ্য জানিয়েছেন।
আলোচিত এ হত্যা মামলায় আপিলের দ্রুত শুনানির জন্য এর আগে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। সোমবার আবেদনটি শুনানির জন্য আদালতের কার্যতালিকায় ওঠে। পরে আদালত শুনানির দিন ধার্য করে।
বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টের রায়
২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক এ বি এম নিজামুল হক এ মামলার রায় দেন। রায়ে ২১ আসামির মধ্যে আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডও দেওয়া হয়।
এ ছাড়া বেআইনি সমাবেশের আরেকটি ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই ১৩ জনকে ছয় মাস করে কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত।
বিচারিক আদালতের রায়ের পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেন আসামিরা।
ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট হাইকোর্ট রফিকুল ইসলাম শাকিল ও রাজন তালুকদারের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। সাইফুল ইসলাম ও কাইয়ুম মিঞাকে মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস দেওয়া হয়। মাহফুজুর রহমান নাহিদ, এমদাদুল হক এমদাদ, জি এম রাশেদুজ্জামান শাওন ও মীর নূরে আলম লিমনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া এএইচএম কিবরিয়া ও গোলাম মোস্তফাকে হাইকোর্ট খালাস দেয়। বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক ১১ আসামির সাজা হাইকোর্ট বহাল রাখে। তারা হাইকোর্টে আপিল করেননি। তারা হলেন খন্দকার ইউনুস আলী, তারেক বিন জোহর তমাল, আলাউদ্দিন, ওবায়দুল কাদের তাহসিন, ইমরান হোসেন, আজিজুর রহমান, আল আমিন শেখ, রফিকুল ইসলাম, মনিরুল হক পাভেল, কামরুল হাসান ও মোশাররফ হোসেন।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আপিল করেন। এবার সেই আপিলের দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
যেভাবে হত্যা করা হয় বিশ্বজিৎকে
২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে বিশ্বজিৎ দাসকে ছাত্রশিবিরকর্মী সন্দেহে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় ২০১৩ সালের ৫ মার্চ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ২১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিশ্বজিৎ লক্ষ্মীবাজারের বাসা থেকে শাঁখারীবাজারে নিজের দোকানে যাচ্ছিলেন। পথে ছাত্রলীগের একদল কর্মী তাকে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। প্রাণ বাঁচাতে দৌড় দিলে শাঁখারীবাজারের রাস্তার মুখে পড়ে যান তিনি।
তদন্ত চলাকালে আসামি শাকিল, শাওন ও নাহিদ আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, ঘটনার সময় শাকিলের হাতে চাপাতি এবং রাজনের হাতে ড্যাগার ছিল। অন্যদের হাতে ছিল রড ও লাঠি।
পরে রিকশাচালক রিপন বিশ্বজিৎকে রিকশায় তুলে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিশ্বজিৎ শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর গ্রামের দাসপাড়া মহল্লার বাসিন্দা অনন্ত দাসের ছেলে। এ ঘটনায় সেদিনই সূত্রাপুর থানায় মামলা হয়। পরে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।


