নাটোরের বনপাড়ায় বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির ফিটনেস সনদের মেয়াদ উত্তীর্ণ এবং নির্ধারিত রুটে চলাচলের অনুমতি না থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
আরপি স্পেশাল নাইস পরিবহনের বাসটির ফিটনেস সনদের মেয়াদ ২০২৫ সালের মে মাসে শেষ হয়েছে। এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চট্টগ্রাম রুটে চলাচলের অনুমতি থাকলেও বাসটি চলছিল বরগুনা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে।
এ ঘটনায় বাস ও ট্রাকের অজ্ঞাতপরিচয় চালকদের আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসনের গঠিত সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ করছে।
সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ নাটোর কার্যালয়ে সহকারী-পরিচালক মো. আলতাফ বলেন, ইফাদ মোটরসের বাসটি আরপি পরিবহনের ব্যানারে চলছিল। বাসটির ফিটনেস সনদের মেয়াদ ২০২৫ সালের মে মাসে শেষ হয়েছে। চট্টগ্রাম-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে চলাচলের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে বাসটি বরগুনা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে চলছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এক রুটের অনুমতি নিয়ে অন্য রুটে বাস চালানোর আইনগত সুযোগ নেই। এ বিষয়ে জবাব চেয়ে ইফাদ মোটরস কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বাসটির নিবন্ধন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
বাসটির বর্তমান মালিক হালিম হোসেন বলেন, ‘বাসটির ফিটনেস সনদের মেয়াদ পাঁচ মাস আগে শেষ হয়েছে। নবায়নের জন্য বিআরটিএ কার্যালয়ে টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। তবে বিআরটিএর হয়রানির কারণে এখনো সনদ নবায়ন করা সম্ভব হয়নি।’
রুট পারমিটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাসটি অল্প কিছুদিন আগে চালু করা হয়েছে। চট্টগ্রাম রুটে চলাচলের অনুমতি থাকলেও এটি বরগুনা রুটে চালানো হচ্ছিল। পরে রুট পরিবর্তনের জন্য আবেদন করা হবে।’
দুর্ঘটনার সময় বাসটির চালক কে ছিল এ বিষয়ে তিনি জানান, সোহেল হোসেন নামের ব্যক্তি ওই দিন বাসটিতে সুপারভাইজার হিসেবে ছিলেন। তবে তার দীর্ঘদিন গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সও আছে বলে দাবি করেন হালিম।
এদিকে এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতে বড়াইগ্রাম থানায় মামলা করা হয়েছে। বনপাড়া হাইওয়ে থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আকবর হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এতে বাস ও ট্রাকের অজ্ঞাতপরিচয় চালকদের আসামি করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করবে বনপাড়া হাইওয়ে থানা। বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাইওয়ে থানা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে বরগুনা থেকে ছেড়ে আসা চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী আরপি স্পেশাল পরিবহনের বাসটির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসের ১২ যাত্রী নিহত হন।
অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের গঠিত সাত সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াতের নেতৃত্বে কমিটির সদস্যরা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা আহত ব্যক্তিদের সঙ্গেও কথা বলেছেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান জানান, তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার ভোরে নাটোর-পাবনা-রাজশাহী সড়কের বনপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ১২ জনের মধ্যে পটুয়াখালীর দুজন, যাঁদের একজন শিশু; শরীয়তপুরের পাঁচজন; রাজশাহীর দুজন এবং নওগাঁ, ঝিনাইদহ ও ফরিদপুরের একজন করে রয়েছেন।


