রাজধানীর ভাটারায় পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া বাড়ি থেকে আটক ৮৫ জনের মধ্যে ৮৪ জনকে ডিএমপির সামারি ট্রায়ালে পুরুষদের এক মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
নারীদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পুলিশ হাউজিং-১ আবাসিক এলাকার তিনতলা ওই বাড়িতে অভিযানে আটককৃতদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ব্যাংকারসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ ছিলেন। এর মধ্যে ৫৯ জন তরুণ ও ২৬ তরুণী রয়েছেন।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির বুধবার দুপুরে মিন্টো রোডে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সোমবার রাতে অভিযানে সেখানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদের বোতল, কেরুর মদের বোতল, কুশ ও ইয়াবা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া কয়েক প্যাকেট কনডম উদ্ধার করা হয়েছে।
ইলিয়াস কবির বলেন, আটক তরুণীদের বেশির ভাগের বয়স ২০ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ও বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং ব্যাংকারসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ সেখানে রয়েছে।
তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিদের সবাই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের অভিভাবকদের পরিচয় আলাদাভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
ইলিয়াস কবির আরও জানান, আটককৃতদের মধ্যে অনিয়মের অভিযোগে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন পদ থেকে বরখাস্ত হওয়া এক ব্যক্তি আছেন। তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ওই বাড়িতে যা ঘটেছে
অভিযানের বর্ণনা দিয়ে ইলিয়াস কবির বলেন, ওই পার্টিতে অংশ নেওয়া উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীরা শিসার ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন কক্ষে তরুণ-তরুণীরা গানের সঙ্গে নাচছিলেন। বাড়ির কাছে যাওয়ার পর মসজিদের আশপাশ থেকেই উচ্চ শব্দে গানের আওয়াজ শোনা যায়। ভেতরে ডিজে পার্টি দেখা যায়। সেখানে প্রায় ২২টি গাড়ি ছিল।
ডিসি বলেন, ভবনটির পাঁচটি কক্ষে ডিজে পার্টি চলছিল। এসব কক্ষগুলো শিসার ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ছিল। সেখানে মদ্যপ অবস্থায় গানের তালে নাচ চলছিল।
ডিসি ইলিয়াস কবির জানান, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এসব ডিজে পার্টির আয়োজন করা হতো। এ জন্য এয়ারবিএনবি ও ট্রাভেলা নামের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের তথ্য পেয়েছেন তারা। সেখানে অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা যুক্ত হন।
তিনি বলেন, বাড়িটির কো-হোস্ট মাহবুবুল আলমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল থেকে সেখানে এ ধরনের আয়োজন চলছিল। মাসে প্রায় ২০ থেকে ২২টি অনুষ্ঠান হতো।
আয়ের বিষয়ে ডিসি বলেন, বাড়ি ভাড়া বাবদ ১০ জনের কাছ থেকে ১৮ হাজার ৫০০ টাকা করে নেওয়ার হিসাব পাওয়া গেছে। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে অংশ নিতে নিবন্ধনকারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৬০০ টাকা নেওয়া হতো বলে জানান তিনি। তার দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, একটি আয়োজনে প্রায় ১০০ জন অংশ নিলে নিবন্ধন ফি থেকে উল্লেখযোগ্য অর্থ আসতে পারে।
ইলিয়াস কবির বলেন, বাড়ির মালিক বা সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দেখছেন।
ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর বাড়ির মালিক অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরকে মঙ্গলবার পুলিশ সদর দপ্তরের মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড রিপেয়ার শাখা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।


