প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে বাবার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার আকুতি জানিয়েছিল দুই বোন। তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন কারাবন্দী বিএনপি নেতা মাহাবুর রশিদ রেন্টুর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি রেন্টুর আইনি বিষয়ে সহযোগিতা এবং পরিবারের একজনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
বুধবার নগর ভবনে রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রেন্টুর স্ত্রী সৈয়দা দিলরুবা আফরোজ এবং তাদের দুই মেয়ে জারিন তাসনিম রাহি ও সাদিয়া তাহমিন মাহি।
এ সময় তাদের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন প্রশাসক। কারাগারে রেন্টুর আইনি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং তার আইনি বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
এর একদিন আগে মঙ্গলবার রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে বাবার মুক্তির আকুতি জানিয়েছিল দুই বোন। দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দী বাবার অসুস্থতা ও পরিবারের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে তারা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে। তাদের আকুতির পরিপ্রেক্ষিতে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে রাসিক প্রশাসককে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে কারাবন্দী বিএনপি নেতা মাহাবুর রশিদ রেন্টুর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পরিবারের একজনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেব। কারাগারে রেন্টুর আইনি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং তার আইনি বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে বাবার মুক্তির আকুতি জানানোর ঘটনা প্রসঙ্গে জারিন তাসনিম রাহি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছেন এবং তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব দিয়েছেন। বাবার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে যথাসম্ভব ভালো রাখার চেষ্টা করবেন বলে প্রশাসক আশ্বাস দিয়েছেন। ইতোমধ্যে তিনি সহযোগিতার উদ্যোগও নিয়েছেন।
রাহি জানান, তার বাবা বাগমারা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০১০ সালে একটি হত্যা মামলায় তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জড়ানো হয় বলে তাদের পরিবারের অভিযোগ। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২১ সালের ১২ অক্টোবর ওই মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
দীর্ঘদিন কারাবন্দী থাকায় তার বাবা কিডনি, হৃদযন্ত্র ও চোখের সমস্যাসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানান রাহি। তিনি বলেন, তারা আদালতের রায় পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে বাবার মুক্তি চান।


