চট্টগ্রামের পটিয়ায় ১৬ লাখ টাকা মূল্যের ১৫ টন চিনিসহ ছিনতাই হওয়া কাভার্ডভ্যান উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে গাড়িটিতে কোনো চিনি পাওয়া যায়নি। লুট হওয়া চিনি উদ্ধারে কক্সবাজারে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় কাভার্ডভ্যানের চালক ও চিনির মালিকের বক্তব্যে গরমিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।
বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের শিকলবাহা ক্রসিং-সংলগ্ন চট্টগ্রাম-আনোয়ারা সড়কে নবনির্মিত কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে কাভার্ডভ্যানটি পাওয়া যায়।
পটিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহবুব বলেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভেল্লাপাড়া এলাকায় কাভার্ডভ্যানের চালক আলমগীরের মুঠোফোনের সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছিল। বুধবার সকালে তাকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন। লুট হওয়া চিনি উদ্ধারে পুলিশ কক্সবাজারের পথে রয়েছে বলে জানান তিনি।
জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ বুধবার পটিয়া থানায় সাংবাদিকদের বলেন, কাভার্ডভ্যানের চালক ও চিনির মালিকের বক্তব্যে গরমিল পাওয়া যাচ্ছে। পুরো বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। কাভার্ডভ্যান উদ্ধার হয়েছে, লুট হওয়া চিনি উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।
বুধবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে পটিয়ার বাদামতল এলাকা থেকে কাভার্ডভ্যানের চালক আলমগীরকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেন কক্সবাজারগামী আরেক কাভার্ডভ্যানের চালক আবুল কালাম আজাদ। পরে তাকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
আবুল কালাম আজাদ জানান, রাস্তার পাশে বাদামতল এলাকার একটি দোকানে চা পান করার সময় তিনি আলমগীরকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে কিছুটা হুঁশ ফিরলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। আলমগীরের তথ্য অনুযায়ী, তাকে বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে অচেতন করা হয়েছিল।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার পরিবহন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জাহিদ ট্রেড অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট ছিনতাই হওয়া কাভার্ডভ্যানটি ভাড়ায় নিয়েছিল।
প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী জাকির হোসেন জানান, মেঘনাঘাটের মেঘনা সুগার মিল থেকে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের এক ব্যবসায়ীর ২৮ টন চিনি পরিবহনের জন্য কাভার্ডভ্যানটি ভাড়া করা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ এলাকায় ফুলকলি কারখানায় ১৩ টন চিনি খালাস করা হয়। এরপর বাকি ১৫ টন চিনি নিয়ে পটিয়ার নাইখাইন এলাকার ফুলকলি কারখানায় যাওয়ার কথা ছিল গাড়িটির।
জাকির হোসেন জানান, মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে চালক আলমগীরের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। তখন চালক জানিয়েছিলেন, গাড়ির ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ায় মইজ্যারটেক এলাকায় দাঁড়িয়ে আছেন। গাড়ির ত্রুটি সারিয়ে পটিয়ার নাইখাইন এলাকার কারখানায় যাওয়ার কথা ছিল তার। বুধবার সকাল নয়টার দিকে অন্য এক চালকের ফোনে তিনি জানতে পারেন, আলমগীরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কাভার্ডভ্যানে কোনো সহকারী চালক বা হেলপার ছিলেন না বলেও জানান তিনি।
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের চিনির সরবরাহকারী ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম কাভার্ডভ্যানের চালকের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নাসিরাবাদে ফুলকলি কারখানায় ১৩ টন চিনি খালাসের পর রাতে চালকের সঙ্গে তার কথা হয়। তখন চালক বিভিন্ন অজুহাত দেখাচ্ছিলেন এবং কাভার্ডভ্যানের নানা সমস্যার কথা বলছিলেন।
সিরাজুল ইসলাম বলেন, বুধবার বিকালে তারা পটিয়া থানায় গিয়ে ছিনতাই হওয়া গাড়ি ও চিনি উদ্ধারের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেন। এ সময় জেলা পুলিশ সুপারও থানায় এসে পুলিশকে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।
তিনি আরও বলেন, থানায় অবস্থান করার সময় খবর পান, কক্সবাজারের এক ব্যবসায়ী কম দামে কিছু চিনি কিনেছেন। পুলিশ সন্দেহ করছে, এসব চিনি ছিনতাই হওয়া কাভার্ডভ্যানের হতে পারে। চিনি উদ্ধারে পুলিশ কক্সবাজারে অভিযান চালাতে যাচ্ছে। তিনিও পুলিশের সঙ্গে সেখানে যাচ্ছেন।
সিরাজুল ইসলামের দাবি, ছিনতাই হওয়া ১৫ টন চিনির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৬ লাখ টাকা।


