দিনাজপুরের বিরল উপজেলার রুদ্রপুর গ্রামে অবস্থিত দীপশিখা মেটি স্কুল। মাটি, বাঁশ ও খড়ের মতো উপকরণ দিয়ে নির্মিত বিদ্যালয়টির স্থাপত্যশৈলী প্রচলিত ইট-কংক্রিটের ভবন থেকে আলাদা। পরিবেশবান্ধব নির্মাণপদ্ধতি ও স্থানীয় ঐতিহ্যের সমন্বয়ে তৈরি ভবনটি স্থাপত্যের একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত।

বিদ্যালয়টির ভবন নির্মাণে মাটি, বাঁশ, খড়সহ স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। দোতলা ভবনটির নকশায় প্রাকৃতিক আলো ও বাতাস চলাচলের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। স্থানীয় পরিবেশ ও নির্মাণ ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি এ ভবন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণে বিকল্প উপকরণ কীভাবে কাজে লাগানো যায় আতার এক অনন্য উদাহরণ।

বিদ্যালয়টির বর্তমান ভবন নির্মাণের কাজ ২০০৫ সালে শুরু হয়ে ২০০৬ এ শেষ হয়। ব্যতিক্রমী স্থাপত্যশৈলীর স্বীকৃতি হিসেবে তার পরের বছর এটি আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার পায়। স্থানীয় উপকরণ ও নির্মাণ কৌশলের সমন্বয়ে তৈরি ভবনটি বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের উল্লেখযোগ্য নিদর্শনগুলোর একটি।
দীপশিখা নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ১৯৯৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করে। রুদ্রপুর ও আশপাশের এলাকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো এই প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম উদ্দেশ্য। বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রমে আনন্দের মাধ্যমে শেখা, হাতে-কলমে শিক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিদ্যালয়টির স্থাপত্যে স্থানীয় পরিবেশ ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন রয়েছে। প্রচলিত নির্মাণ উপকরণের পরিবর্তে স্থানীয়ভাবে পাওয়া উপকরণ ব্যবহারের ফলে ভবনটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। একই সঙ্গে এর নকশায় প্রাকৃতিক আলো-বাতাসের ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা ভবনের ব্যবহারিক দিকের সঙ্গে স্থাপত্যশৈলীর সমন্বয় ঘটিয়েছেে

দিনাজপুর শহর থেকে এ বিদ্যালয়ের দূরত্ব আনুমানিক ২২ থেকে ২৫ কিলোমিটার। ঢাকা থেকে সড়ক ও রেলপথে দিনাজপুর যাওয়া যাবে। দূরপাল্লার বাস বা আন্তনগর একতা এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেস ও পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনেও শহরটিতে পৌঁছানো যায়। তারপর সেখান থেকে স্থানীয় যানবাহনে বিরল উপজেলার রুদ্রপুর গ্রামে অবস্থিত বিদ্যালয়টিতে যাওয়া যাবে।
দীপশিখা মেটি স্কুলের বিশেষত্ব শুধু এর শিক্ষা কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ নয়; ভবনটির নির্মাণ উপকরণ ও নকশাও গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় উপকরণ ব্যবহার, প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য এবং ঐতিহ্যভিত্তিক নির্মাণশৈলীতে বিদ্যালয়টি বাংলাদেশের বিকল্প ও পরিবেশবান্ধব স্থাপত্য শিল্পে একটি উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছে।


