চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বিশেষ রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) পরিচয়ে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহছানকে (৩৬) অপহরণের ঘটনায় চক্রের মূলহোতা সাবেক সেনা ও এসআরবি সদস্য সুমন মুন্সিসহ ছয়জনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
অপহরণের চার দিন পর বুধবার কক্সবাজারের টেকনাফের আলীখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প (লেদা ক্যাম্প-২৫) এলাকা থেকে তাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
আটক অন্য পাঁচজন হলেন মিজানুর রহমান (২৯), জয়নাল উদ্দিন (২৮), মো. আব্বাস উদ্দিন (৩১), মো. ছলিম ওরফে সেলিম (৩০) ও দেলোয়ার হোসেন (৪০)।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. রাসেল বলেন, বাঁশখালীর পুঁইছড়ি ইউনিয়নের প্রেমবাজার থেকে এসআরবি পরিচয়ে এক দোকানদারকে তুলে নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর গত তিন থেকে চার দিন ধরে পুলিশ এ ঘটনায় কাজ করছিল। পরে টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, প্রথম দিকে অপহরণকারীরা মুক্তিপণ দাবি করলেও পরে আর দাবি করেনি। উদ্ধার হওয়া ব্যবসায়ী অক্ষত রয়েছেন। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন সাবেক সেনাসদস্য রয়েছেন। তাদের বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
পুলিশের তথ্যমতে, গত ১৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাঁশখালীর পুঁইছড়ি ইউনিয়নের প্রেমবাজারে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে এহছানকে অপহরণ করা হয়। এ সময় সাবেক সেনা ও এসআরবি সদস্য সুমন মুন্সিসহ অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে ছয়জন এসআরবির পোশাক পরে তাকে তুলে নিয়ে যায়।
পরে বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে এহছানের স্ত্রী ও দোকানের ব্যবস্থাপক মোজাফফর উদ্দিনের কাছে ফোন করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। দাবি করা টাকা না দিলে এহছানকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর বাঁশখালী থানায় একটি মামলা করা হয়।
উদ্ধার হওয়া ব্যবসায়ী এহছান বাঁশখালীর পুঁইছড়ি ইউনিয়নের প্রেমবাজারের ব্যবসায়ী। তিনি একই এলাকার তেলিয়াকাটা গ্রামের নুরুল কবিরের মেজো ছেলে। দীর্ঘ ১২ বছর দক্ষিণ আফ্রিকার মোজাম্বিকে ব্যবসা করার পর দেশে ফিরে স্থানীয়ভাবে চারটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছিলেন তিনি।


