জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীসহ ২২ আসামির বিরুদ্ধে করা মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ হয়েছে।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেয়। ১৩ অক্টোবর শুনানি শেষে রিভিউ আবেদন আদেশের জন্য ধার্য ছিল। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী ও এহসানুল হক সমাজী। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন অলি মিয়া।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে গত ৩০ জুন অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।
অভিযোগ গঠনের ওই আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচ আসামি। এ আবেদনের ওপর গত ২১ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় শুনানি হয়। দ্বিতীয় দফায় শুনানি অনুষ্ঠিত হয় ৮ অক্টোবর।
গ্রেপ্তার পাঁচ আসামি হলেন সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফিরোজ ও দেবাশীষ পাল দেবু। মামলার নথি অনুযায়ী, আসামিরা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তদন্ত শেষে গত ২ এপ্রিল তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন প্রসিকিউশন কার্যালয়ে জমা দেয়। যাচাই-বাছাই শেষে প্রসিকিউশন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে।
মামলায় মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামে মো. ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যা করা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৮ জুলাই তানভীর সিদ্দিকী, মো. সাইমন ও হৃদয় চন্দ্রকে হত্যা করা হয়। তৃতীয় অভিযোগে একই ঘটনাপ্রবাহে শতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ছাড়া মামলার পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচ এম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে।


