সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে পাচারের সময় আনুমানিক ২৬০ টন ইন্দোনেশীয় কয়লাবোঝাই একটি বাল্কহেড কার্গো জব্দ করেছে বন বিভাগ। এ সময় জাহাজে থাকা নয়জনকে আটক করা হয়।
রোববার বিকালে বাগেরহাটের শরণখোলা রেঞ্জের ভোলা নদী থেকে কার্গোটি জব্দ ও জড়িতদের আটক করা হয়।
সোমবার দুপুরে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আটক ব্যক্তিরা হলেন তরিকুল ইসলাম (৩৪), দুলাল হাওলাদার (৩৪), সুমন তালুকদার (২১), নুরনবী (৩০), এনায়েত করিম (৪০), মো. ওবায়দুল (২২), মামুন (২২), মো. লায়েক মিয়া (৫০) ও কবির হোসেন (৩০)। তাদের বাড়ি বাগেরহাটের মোংলা ও মোরেলগঞ্জ, পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকায়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) শ্যামা প্রসাদ রায়ের নেতৃত্বে বনরক্ষীরা ভোলা নদীতে নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় কয়লাবোঝাই কার্গো জাহাজটি নজরে আসে। গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় জাহাজটি থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ভেতরের লোকজন কয়লার প্রকৃত মালিকের নাম জানাতে পারেননি। পরে কার্গো জাহাজসহ নয়জনকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের বরাতে বন বিভাগ জানিয়েছে, মোংলা বন্দরের পশুর নদীর জয়মনি এলাকায় অবস্থানরত একটি মাদার ভ্যাসেল থেকে কার্গোতে প্রায় ২৬০ টন ইন্দোনেশীয় কয়লা বোঝাই করা হয়। এরপর কার্গোটি নির্ধারিত গন্তব্যে না নিয়ে সুন্দরবনের ভেতরের নদীপথ ব্যবহার করে অন্য কোথাও নেওয়া হচ্ছিল। কয়লার মালিকানা, পরিবহনের বৈধতা ও চূড়ান্ত গন্তব্য সম্পর্কে তদন্ত চালানো হচ্ছে।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, অবৈধভাবে সংরক্ষিত সুন্দরবনের নদীপথ ব্যবহার করে কয়লা পাচারের ঘটনায় বন আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া আটক ব্যক্তিদের প্রচলিত আইনে অন্য একটি মামলা করে শরণখোলা থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খানম জানান, সুন্দরবনের ভোলা নদী থেকে কয়লাবোঝাই বাল্কহেড কার্গোসহ আটক নয়জনকে থানায় হস্তান্তর করেছে বন বিভাগ। এ ঘটনায় পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) শ্যামা প্রসাদ রায় বাদী হয়ে মামলা করেছেন এবং আসামিদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।


