রাজধানীর হাজারীবাগে এ জে আর পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিস লিমিটেডের সেন্ট্রাল সর্টিং সেন্টারে (ওয়্যারহাউজ) হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা হয়েছে।
বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ জে আর পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিস লিমিটেডের এইচআর অ্যান্ড অ্যাডমিন বিভাগের ম্যানেজার আফসার উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয়ের ৭০-৮০ জনকে আসামি করে হাজারীবাগ থানায় মামলা করেন।
রাতে হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মামলায় অজ্ঞাত পরিচয়ের আসামিসহ ৭০-৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ নিয়ে অভিযান চলমান রয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে হাজারীবাগ থানাধীন মেন্ডি ডেন্টাল কলেজ রোড সংলগ্ন কুরিয়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজে হামলার ঘটনা ঘটে। মুখে মাস্ক ও মাথায় হেলমেট পরিহিত ৭০ থেকে ৮০ জন এ হামলা ও ভাঙচুরে অংশ নেয়।
এসময় কার্যালয়ের প্রায় ৩১ লাখ টাকার মালামাল লুটপাটের অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৮ অক্টোবর আনুমানিক রাত ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে মোটরসাইকেলে দুই অজ্ঞাত ব্যক্তি কুরিয়ার সার্ভিসটির হাজারীবাগ সেন্ট্রাল সর্টিং সেন্টারের গেটে আসেন।তারা সিকিউরিটি গার্ড মো. হারুন আর রশিদের কাছে অপারেশন ম্যানেজার নিজাম উদ্দিনের খোঁজ করেন। নিজাম উদ্দিন ডিউটিতে নেই জানালে তারা ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন।
অনুমতি ছাড়া ভেতরে ঢুকতে না দেওয়ায় তারা সিকিউরিটিকে হুমকি-ধামকি দিয়ে চলে যান। পরে ২০ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ৪৪ মিনিটে ৩৫ থেকে ৪০টি মোটরসাইকেলে ৭০ থেকে ৮০ জন মাস্ক ও হেলমেট পরিহিত লোক ওয়্যারহাউজের পশ্চিম গেটে আসেন। তাদের মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ জন ভেতরে ঢুকে সিসি ক্যামেরা ও তার ছিঁড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। বাকি ৩০ থেকে ৪০ জন বাইরে অবস্থান নেন।
সন্ত্রাসীদের মধ্যে ৮ থেকে ৯ জন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ছিলেন। ভেতরে ঢুকেই তারা আসবাবপত্র ও গ্রাহকের মালামাল ভাঙচুর শুরু করেন।ঘটনায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আতঙ্কিত হয়ে ছুটতে থাকেন।
এসময় একজন সন্ত্রাসী নিজেদের ‘ক্যাপ্টেন ইমন’-এর লোক পরিচয় দিয়ে জায়গা ও ভাড়ার দাবি করে হামলা চালাতে থাকেন। তারা সিসি ক্যামেরার সার্ভার রুমের তালা ও দরজা ভেঙে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। হামলাকারীরা একটি সিসকো কোর, একটি রাউটার, বিভিন্ন চ্যানেলের সাতটি এনভিআর, ১০ টিবির ৩৮টি হার্ডডিস্ক, একটি সার্ভার রেক, ৪০টি ২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, ৮টি সিপিইউ, ৮টি মনিটর ও একটি ল্যাপটপ লুট করে নিয়ে যায়। লুট হওয়া মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩১ লাখ টাকা।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর থেকে সাইফুল নামের এক ব্যক্তি নিজেকে ‘ক্যাপ্টেন ইমনের লোক’ পরিচয় দিয়ে ফোন করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি দিচ্ছেন। ইতোপূর্বেও চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।


