বিচারকের সংখ্যা ক্রমেই কমতে থাকায় চরম মামলাজটের মুখে পড়েছে সর্বোচ্চ আদালত। বর্তমানে সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে প্রায় ৩৯ হাজার মামলা। অথচ বিচারক মাত্র চারজন। এই সংকট কাটাতে নতুন বিচারক নিয়োগের আলোচনা জোরদার হলেও, সম্ভাব্য কয়েকজন প্রার্থীর অতীত রেকর্ড, বিচারিক সিদ্ধান্ত ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে এই নিয়োগপ্রক্রিয়া এখন বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ও জনগণের আস্থার এক বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, সাবেক বিচারক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সমস্যাটি এখন আর শুধু শূন্যপদ পূরণের নয়। মূল চ্যালেঞ্জ হলো এমনভাবে বিচারকসংখ্যা বাড়ানো, যাতে আদালতের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়। বর্তমানে প্রধান বিচারপতি…
Author: আহমেদ আল আমীন
ঢাকার একটি রাজনৈতিক সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার দুই দশক পর দেশের সর্বোচ্চ আদালতে সব আসামির খালাসের ফলে তৈরি হয়েছে এক গভীর বিচারিক শূন্যতা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ সব আসামি খালাসের হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। তবে এখনো পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়নি। ফলে ২১ আগস্টের দিনে আবারও সামনে এসেছে একটি বড় প্রশ্ন—যে বিচার প্রক্রিয়া রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগে বিতর্কিত ছিল, তা শেষ হওয়ার পর ২৪ নিহত এবং শতাধিক আহত মানুষের জন্য ন্যায়বিচার কোথায়? আপিল বিভাগের ছয় সদস্যের বেঞ্চ, তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে, ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের…
রাষ্ট্রপক্ষের ‘অজান্তে’ হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বের হয়ে গেছেন কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার আসামি অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান। গত রোববার হাফিজুর রহমানকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয় বিচারপতি জাফর আহমেদ এবং বিচারপতি সাথীকা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। একই সঙ্গে হাফিজুর রহমানকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে আদালত। সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। তবে জামিনের শুনানির খবর রাষ্ট্রপক্ষের সংশ্লিষ্ট আইন কর্মকর্তাদের কেউ জানতে পারেননি বলে দাবি করা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কারাগার থেকে হাফিজুরের মুক্তির পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এই মামলায় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি…
কাঁঠালগাছের বড় বড় ডাল মাথার ওপর ছায়া ফেলেছে। পাশে কয়েকটি নারকেলগাছ। চারপাশে তেমন কোনো কোলাহল নেই। উত্তরার বিমানবন্দর এলাকার র্যাব-১ ব্যাটালিয়নের কম্পাউন্ডের ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকা দ্বিতল টিনশেড ভবনটিকে দেখে প্রথম দর্শনে আলাদা কিছু মনে হয় না। ভবনটির পাশে অস্ত্রাগার। উত্তর-পশ্চিম পাশে বড় একটি লোহার খাঁচা। সেখানে ডগ স্কোয়াড থাকত বলে জানানো হয়েছে। বাইরে থেকে ভবনটির ভেতরে কী ছিল, তা বোঝার কোনো উপায় নেই। কিন্তু দরজা পেরিয়ে ভেতরে ঢোকার পর দৃশ্য বদলে যায়। গরম, ভারী বাতাস। কয়েক মিনিট দাঁড়িয়ে থাকলেই শরীর ঘামে ভিজে যায়। কোথাও জানালা নেই। কোথাও এমন সংকীর্ণ কক্ষ, যেখানে একজন মানুষের স্বাভাবিকভাবে দাঁড়ানোই সম্ভব নয়। কোনো কোনো জায়গায়…
চট্টগ্রাম-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সারোয়ার আলমগীরের বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ের লিখিত অনুলিপি প্রকাশের আগেই গেজেট প্রকাশ ও শপথ পড়ানো নিয়ে সোমবার আপিল বিভাগে তীব্র প্রশ্ন তোলে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। শুনানির একপর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ও রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তার মধ্যে প্রকাশ্য বাক্যবিনিময় হয়, যা আদালতকক্ষে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। আদালতে উপস্থিত একাধিক সূত্র টাইমস অব বাংলাদেশকে জানিয়েছে, সোমবার সকালে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির নির্বাচিত প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে করা আবেদনের শুনানি শেষে আদালত আদেশ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ঠিক সেই সময় অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল…
মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি বহুল আলোচিত মামলায় ঘুষের বিনিময়ে এক আসামিকে রাজসাক্ষী করার অভিযোগ তদন্তে গঠিত ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি চার মাস পার হলেও প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। এ সময়ের মধ্যে অভিযোগের মুখে থাকা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম প্রসিকিউশন টিমে বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখেছেন। চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলছেন, কমিটির কার্যক্রম চলছে, তদন্ত শেষ হয়নি। শিগগিরই প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এই অভিযোগ প্রথম প্রকাশ্যে আনেন প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ। তিনি তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, আশুলিয়ায় সাতজনকে হত্যা ও পাঁচটি মরদেহ পোড়ানোর অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি, পুলিশের সাবেক উপপরিদর্শক শেখ…
গত ১৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে কোনো মামলার শুনানি করছেন না, এজলাসে বসছেন না, কোনো রায়ও দিচ্ছেন না সাংবিধানিক পদ হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ। অথচ নিয়মিত পাচ্ছেন বেতন-ভাতাসহ রাষ্ট্রের দেওয়া সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা। রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব, দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগ ওঠার পর ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন তাকে মামলার দায়িত্ব দেওয়া থেকে বিরত রাখে। তখন থেকে হাইকোর্টের এই বিচারপতি বিচারিক কাজ থেকে পুরোপুরি দূরে আছেন। তা সত্ত্বেও তিনি নিয়মিত তার রাষ্ট্রীয় বেতন, ভাতা, সরকারি প্রটোকল এবং অন্যান্য সব সুবিধা পেয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগগুলো গুরুতর হওয়া সত্ত্বেও, বিচারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্বে থাকা ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল’ তার বিরুদ্ধে এখনও কোনো…
সুপ্রিম কোর্টে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ঝুলে আছে প্রায় সাত লাখ মামলা। এর মধ্যেই আদালতের পঞ্জিকা বলছে, ২০২৬ সালে দেশের সর্বোচ্চ এই আদালত ১৮৫ দিনই বন্ধ থাকবে। অথচ এই বছরে আদালতের কর্মদিবস মাত্র ১৮০ দিন। অর্থাৎ কাজের চেয়ে ছুটির দিনই বেশি। সুপ্রিম কোর্টের এই ছুটির মধ্যে ১০৪ দিন সাপ্তাহিক ছুটি, ১৮ দিন সরকারি ছুটি এবং ৬৩ দিন কোর্টের নিজস্ব অবকাশ বা ছুটি। মজার ব্যাপার হলো, অন্য বছরের তুলনায় এবার কর্মদিবস তাও একটু বেশি। কারণ, ১১টি সরকারি ছুটি পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার। অন্য বছরগুলোতে কর্মদিবসে সরকারি ছুটি পড়ে গেলে ছুটির তালিকা আরও লম্বা হয়। এর বাইরে হঠাৎ কোনো সরকারি ছুটি…
সব মামলায় জামিন পাওয়ার পরও কারাগার থেকে মুক্তি পাননি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। তাদের মধ্যে আইভীর মুক্তি না পাওয়ার কারণটি বেশ চমকপ্রদ। আপিল বিভাগ তার ১০ মামলায় জামিন বহাল রাখার আদেশ দিলেও লিখিত আদেশে সকল বিচারপতির সাক্ষর হয়নি। একজন বিচারপতি বিদেশে থাকায় আপিল বিভাগের লিখিত আদেশে তিনি সাক্ষর করতে পারেননি। তাই জামিন পেয়েও ১৫দিন ধরে কারাগারে আছেন আইভী। অন্যদিকে আগের সব মামলায় জামিনের পর কারামুক্তির আগেই নতুন মামলায় ‘গ্রেপ্তার হয়েছেন’ সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারওয়ার আহমেদ বলেন,…
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে জামায়াতে ইসলামীর ভোট ও সমর্থন খুবই কম। তাদের হাতে নির্বাচনের মাঠে উপযুক্ত নিজস্ব প্রার্থী ছিল না। ওদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা প্রার্থী হতে পারেননি। এ অবস্থায় নেপথ্যে থেকে সাধারণ অথচ হেভিওয়েট আইনজীবীদের নেতৃত্বে সরকারবিরোধী একটি ঐক্যবদ্ধ প্যানেল গঠনই হতে পারত আওয়ামী ভোটব্যাংক নিজেদের ঝুলিতে টানার ক্ষেত্রে জামায়াতের সবচেয়ে কার্যকর কৌশল। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, একগুঁয়েমি ও নিজস্ব গন্ডির বাইরে চিন্তা করতে না পারার কারণে নিজের যা ছিল; তাই নিয়ে ভোটের মাঠে নেমেছে দলটি। ফলস্বরূপ জামায়াত সমর্থিত প্যানেলের ভরাডুবি ঘটেছে। অর্থাৎ প্রার্থী নির্ধারণে কার্যকর কৌশল ও সম্ভাব্য বর্জনের মুখে থাকা ভোটগুলো টানতে না পারায় ভোটের আগেই নির্বাচনে হেরেছে সবুজ…

