কাঁঠালগাছের বড় বড় ডাল মাথার ওপর ছায়া ফেলেছে। পাশে কয়েকটি নারকেলগাছ। চারপাশে তেমন কোনো কোলাহল নেই। উত্তরার বিমানবন্দর এলাকার র্যাব-১ ব্যাটালিয়নের কম্পাউন্ডের ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকা দ্বিতল টিনশেড ভবনটিকে দেখে প্রথম দর্শনে আলাদা কিছু মনে হয় না। ভবনটির পাশে অস্ত্রাগার। উত্তর-পশ্চিম পাশে বড় একটি লোহার খাঁচা। সেখানে ডগ স্কোয়াড থাকত বলে জানানো হয়েছে। বাইরে থেকে ভবনটির ভেতরে কী ছিল, তা বোঝার কোনো উপায় নেই।
কিন্তু দরজা পেরিয়ে ভেতরে ঢোকার পর দৃশ্য বদলে যায়। গরম, ভারী বাতাস। কয়েক মিনিট দাঁড়িয়ে থাকলেই শরীর ঘামে ভিজে যায়। কোথাও জানালা নেই। কোথাও এমন সংকীর্ণ কক্ষ, যেখানে একজন মানুষের স্বাভাবিকভাবে দাঁড়ানোই সম্ভব নয়। কোনো কোনো জায়গায় বসলে উঠে দাঁড়ানোও কঠিন। আলো-বাতাস ঢোকার সুযোগও সামান্য।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন বিচারক, প্রসিকিউশন দল এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যখন এই ভবনে প্রবেশ করেন, তখন তারা এমনই একটি স্থাপনার মুখোমুখি হন।
গুমের অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত ও বিচারের অংশ হিসেবে এই পরিদর্শন।
ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী ভবনটি ঘুরে দেখেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, শাইখ মাহদী, সহিদুল ইসলাম সরদার, সুলতান মাহমুদ, শেখ মইনুল করিম ও তাসমিরুল ইসলামসহ প্রসিকিউশন দলের সদস্যরা।
গুম কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী তাবারক হোসেন ও আমির হোসেনও পরিদর্শনে অংশ নেন।

৪১ ইঞ্চির কক্ষ
ভবনের ভেতরে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে ছোট ছোট কক্ষগুলো। একটির উচ্চতা মাত্র ৪১ ইঞ্চি। আরেকটির ৫৩ ইঞ্চি। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের স্বাভাবিকভাবে দাঁড়িয়ে থাকার জন্যও এই উচ্চতা যথেষ্ট নয়। শুতে গেলেও স্বাভাবিক ভঙ্গিতে শোয়ার সুযোগ নেই।
পরিদর্শনকারীদের একজন মনে করেন, কক্ষগুলোর আকার ও নির্মাণশৈলী দেখে এগুলো সাধারণ কারাগারের সেলের সঙ্গে মেলানো কঠিন। প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ এসব কক্ষকে ‘মুরগির খাঁচা’ বলে বর্ণনা করেছেন।
কক্ষগুলোর ভেতরে প্রস্রাব-পায়খানার জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা রয়েছে। জানালা নেই। দিনের বেলাতেও ভেতরে অন্ধকার থাকার মতো পরিবেশ।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এসব কক্ষে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস এমনকি বছরের পর বছর মানুষকে আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে।
কেউ পাশের কক্ষে কে আছেন, তা জানতেন না। ভেতরে কী ঘটছে, সেটিও জানার উপায় ছিল না। কক্ষগুলোর এমন নির্মাণই যেন ছিল বিচ্ছিন্নতার একটি ব্যবস্থা।
দেয়াল সরালে বেরিয়ে আসে কক্ষ
ভবনের কিছু অংশ এখন আগের মতো নেই। কয়েকটি দেয়াল ভেঙে ফেলা হয়েছে। ফলে কোনো কোনো জায়গা এখন তুলনামূলক বড় মনে হয়। কিন্তু পরিদর্শনকারীদের জানানো হয়েছে, এসব জায়গার ভেতরে আগে ছোট ছোট কক্ষ ও পার্টিশন ছিল।
একটি বড় জায়গার মধ্যে আগে ছয়-সাতটি ছোট কক্ষ ছিল বলে জানানো হয়। এসব কক্ষে একজন মানুষ হয়তো দাঁড়াতে পারতেন, কিন্তু স্বাভাবিকভাবে শোয়ার সুযোগ ছিল না। হাঁটু ভাঁজ করে শুতে হতো।
পরিদর্শনের সময় ভবনের বিভিন্ন অংশে নতুন দেয়াল নির্মাণ করে পুরোনো কাঠামো আড়াল করার আলামতও দেখা যায়।
প্রসিকিউশন সূত্র মনে করে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ভবনের দেয়াল, দরজা, জানালা ও অন্যান্য কাঠামোর পরিবর্তন বা ধ্বংসের মাধ্যমে গুমের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু সাক্ষ্যপ্রমাণ নষ্ট বা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে।
কে বা কারা এই পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত ছিল, তা তদন্ত করা হচ্ছে বলে প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে।

২৯টি স্থায়ী সেল
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতল ভবনটিতে ২৯টি স্থায়ী সেল রয়েছে। নিচতলার একটি অংশে ১০টি সেল। খোলা টয়লেটসহ প্রতিটি কক্ষের গড় আকার প্রায় ৫ ফুট বাই ৮ ফুট।
নিচতলার অন্য অংশে সৈনিক ব্যারাকের মতো একটি জায়গা রয়েছে। সেখানে টিএফআই সেলে পাহারার দায়িত্বে থাকা র্যাব সদস্যরা থাকতেন।
দ্বিতীয় তলায় আরও ১০টি সেল। এগুলোর গড় আকার প্রায় ১৪ ফুট বাই সাড়ে ৪ ফুট। আরও রয়েছে দুটি বড় কক্ষ। এগুলোকে তথাকথিত ‘ভিআইপি সেল’ বলা হতো। একটি প্রায় ১৪ ফুট বাই ১০ ফুট, অন্যটি ১০ ফুট বাই ১০ ফুট। সঙ্গে রয়েছে দুটি ছোট টয়লেট।
দ্বিতীয় তলাতেই টিএফআই সেল এবং র্যাবের গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তাদের কয়েকটি অফিস কক্ষ ছিল বলে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়।
প্রবেশমুখের সিঁড়ির কাছে রয়েছে আরও সাতটি অতিসংকীর্ণ সেল। খোলা টয়লেটসহ এসব কক্ষের গড় আকার আনুমানিক ২ ফুট বাই ৪ ফুট।
এগুলোকে ‘ডেথ সেল’ বা ‘যম সেল’ বলা হতো বলে জানানো হয়েছে।
গুমের ভুক্তভোগীর সংখ্যা বেড়ে গেলে দ্বিতীয় তলার খোলা জায়গা ও করিডোরে ক্যানভাস বা কাপড়ের পার্টিশন দিয়ে অস্থায়ী সেল বানানো হতো বলেও প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়।
একটি ভবন, দুটি পরিচয়
টিএফআই সেল হিসেবে পরিচিত এই ভবনটি মূলত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একটি স্থাপনা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে জানা যায়। পরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এটি বলপূর্বক গুমের অন্যতম বন্দিশালা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, স্থাপনাটি র্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালকের অধীনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। র্যাবের সাধারণ সদস্যদের অনেকেরই ভবনের ভেতরে প্রবেশ কিংবা সেখানে কী ঘটত, তা জানার সুযোগ ছিল না।
গোপনীয়তা বজায় রাখতে স্থাপনাটিকে সাংকেতিকভাবে ‘হাসপাতাল’ নামেও ডাকা হতো।

প্রসিকিউশন সূত্রের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বলপূর্বক গুমের একটি কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে র্যাব কখনো এককভাবে, কখনো অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে টার্গেটভিত্তিক অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও গুমের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে।
টিএফআই সেলে আটক ব্যক্তিদের অনেক সময় অন্য গোপন বন্দিশালায় পাঠানো হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগ এখনো বিচারাধীন। আসামিপক্ষের আইনজীবী তাবারক হোসেন বলেন, ভবনটিকে ‘আয়নাঘর’ বলা হচ্ছে, কিন্তু এসব অভিযোগ প্রসিকিউশনকে আদালতে প্রমাণ করতে হবে।
জিজ্ঞাসাবাদের ঘর
ভবনের ওপরের অংশে ছিল জিজ্ঞাসাবাদের কক্ষ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তিনটি কক্ষ ছিল সাউন্ডপ্রুফ। সেখানে যাদের আনা হতো, তাদের ‘সাবজেক্ট’ নামে ডাকা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। এই কক্ষগুলোতে নির্যাতনের জন্য নানা ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
ছিল ঘূর্ণায়মান স্টিলের চেয়ার। বন্দীদের সেখানে বসিয়ে বৈদ্যুতিক মোটরের সাহায্যে দ্রুত ঘোরানো হতো। ছিল বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার ব্যবস্থা। ছাদ থেকে বন্দীদের ঝুলিয়ে রাখার ব্যবস্থাও ছিল।
একটি মইয়ের মতো লোহার বেডও ছিল। বন্দীদের সেখানে বেঁধে বিভিন্ন কায়দায় নির্যাতন করা হতো। কখনো ধীরগতিতে ঘড়ির কাঁটার মতো ঘুরিয়ে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হতো। কক্ষগুলোর দেয়ালে নির্যাতনের শিকার মানুষের বিভৎস ছবি, কাটা হাত এবং চোখ উপড়ে ফেলা মানুষের ছবিও টাঙানো থাকত বলে অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
ডেথ সেল
ভবনের নিচতলার একটি কক্ষকে ভুক্তভোগীরা ‘ডেথ সেল’ বলে বর্ণনা করেছেন। চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ভুক্তভোগীদের বর্ণনার সঙ্গে মিলিয়ে কয়েকটি কক্ষ শনাক্ত করা হয়েছে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে শুরুতে ঘটনাস্থলের সঙ্গে ভুক্তভোগীদের বর্ণনার মিল পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে কিছু নতুন দেয়াল সরানোর পর আড়ালে থাকা কক্ষগুলো পাওয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত আড়াই শতাধিক গুম হওয়া ব্যক্তির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের মধ্যে বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীও রয়েছেন।
গত বছরের আগস্টের পর ফিরে আসা কয়েকজন ভুক্তভোগীর বর্ণনার সঙ্গে মিলিয়ে কয়েকটি কক্ষ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।
ব্যারিস্টার আরমান যে কক্ষে আটক ছিলেন বলে বর্ণনা দিয়েছেন, সেটিও তদন্তকারীরা শনাক্ত করেছেন বলে চিফ প্রসিকিউটর জানান।
নামহীনদের গল্প কোথায়?
টিএফআই সেলে আটক রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা ব্যক্তিদের পরিচয় ও সংখ্যা এখনো তদন্তের বিষয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কখনো বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মী, আবার কখনো জঙ্গি সন্দেহে মানুষকে সেখানে আটক রাখা হতো। কেউ আদালতে হাজির হয়েছেন। কেউ আর ফেরেননি।
কেউ ফিরে এসে নিজের আটক থাকার স্থান সম্পর্কে বর্ণনা দিয়েছেন। সেই বর্ণনার সঙ্গে মেলানো হয়েছে ভবনের কক্ষ, দেয়াল ও কাঠামো।
গুম কমিশনের সদস্য নূর খান লিটনও পরিদর্শনে ছিলেন। গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা ভবনের কক্ষগুলো দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা গুমের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের পাশাপাশি নিখোঁজদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও মর্যাদার দাবি জানান।

আইন কোথায় ছিল
বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গ্রেপ্তারের কারণ জানানোরও বিধান রয়েছে।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ও ১৬৭ ধারাতেও সংশ্লিষ্ট বিধান রয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটরের অভিযোগ, টিএফআই সেলে আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এসব সাংবিধানিক ও আইনি সুরক্ষা অনুসরণ করা হয়নি।
প্রসিকিউশন সূত্র মনে করে, আইনগত প্রক্রিয়ার বাইরে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা, গুম, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ শুধু সাধারণ আইন লঙ্ঘনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের অংশ হিসেবেও তদন্ত করা হচ্ছে।
মাঠপর্যায়ে যারা এসব কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল, তাদের পাশাপাশি কার নির্দেশে এসব হয়েছে এবং তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায় কতটা ছিল, সেটিও ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ নীতির আওতায় তদন্ত করা হচ্ছে বলে প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে।
বিচারকেরা কেন এলেন
২১ জুলাই প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল-১ টিএফআই সেলসহ র্যাব, ডিজিএফআই ও ডিবির কথিত গোপন বন্দিশালা পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেয়।
চিফ প্রসিকিউটর সেদিন এসব স্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে বিরোধী মতাদর্শের লোকজনকে তুলে এনে আটকে রাখা, নির্যাতন ও গুম করার অভিযোগ তুলে ধরেন। শনিবারের পরিদর্শন সেই তদন্তেরই একটি অংশ।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যবিধি, রোম সংবিধির সংশ্লিষ্ট বিধান এবং বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারকদের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সুযোগ রয়েছে।
বিচারকদের পরিদর্শনের পর ভবনটি সাংবাদিকদের জন্যও উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। তখন ভবনটি আরও নির্জন মনে হচ্ছিল।
বাইরে গাছের ছায়া। বাতাসে পাতার শব্দ। দূরে র্যাবের কম্পাউন্ডের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড। আর ভেতরে সেই ছোট ছোট কক্ষ। ধুলো জমা মেঝে। মাকড়সার জাল। জানালাবিহীন অন্ধকার। বাইরে থেকে ভবনটির কোনো আলাদা পরিচয় নেই।
কিন্তু প্রসিকিউশন যে অভিযোগ তদন্ত করছে, তার মূল প্রশ্নটি এই ভবনের ভেতরেই রয়ে গেছে: এই ছোট ছোট কক্ষগুলো কেন তৈরি হয়েছিল, কারা এখানে মানুষকে আটকে রাখত এবং তাদের সঙ্গে কী ঘটেছিল?


