ছয় দফা দাবি/ লংমার্চে বাধা দিলে সরকার জনরোষের মুখে পড়বে: জামায়াত

লংমার্চে বাধা দিলে সরকার জনরোষের মুখে পড়বে: জামায়াত
চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ কর্মসূচির সর্বশেষ প্রস্তুতি জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। শুক্রবার জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। ছবি: জামায়াতে ইসলামীর সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

গণভোটের রায় ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন এবং জ্বালানি সংকট সমাধানসহ ছয় দফা দাবিতে ডাকা ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চে বাধা দিলে সরকারকে জনগণের ক্ষোভের মুখে পড়তে হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট।

এদিকে, বিরোধী দলগুলোর প্রতি রাজপথের আন্দোলনের হুমকি না দিয়ে সংসদে বিকল্প পরিকল্পনা ও পরামর্শ তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি।

শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এই কর্মসূচি একটি নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক আন্দোলন এবং সরকার পতনের উদ্দেশ্যে এটি করা হচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দল বা প্রশাসন লংমার্চে প্রতিকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে সরকার জনগণের আস্থা হারাবে এবং জনরোষের মুখে পড়বে।’

জোটের অন্য দাবির মধ্যে রয়েছে জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, সার ও জ্বালানি সংকট নিরসন এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন।

বড় ধরনের কোনো বাধা না থাকলে শনিবার সকালে ঢাকার শাপলা চত্বরে সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চ শুরু হবে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে গিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।

লংমার্চের অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর, চট্টগ্রাম রোড, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার, চৌদ্দগ্রাম, ফেনীর মহিপাল ও চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে।

পরওয়ার জানান, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে এবং সময় বাঁচাতে জোটের নেতারা প্রতিটি পথসভায় অংশ নেবেন না। কর্মসূচিসূত্রে তিনি আরও জানান, এ সময় নিরাপত্তা, অ্যাম্বুলেন্স, সাংস্কৃতিক, আইটি ও মেডিকেল টিম একটি সমন্বিত পরিকল্পনার অধীনে দায়িত্ব পালন করবে।

আরও পড়ুন

সরকারের ছয় মাসের মেয়াদের কথা উল্লেখ করে পরওয়ার বলেন, সব সমস্যা সমাধানের জন্য এই সময়টি যথেষ্ট নয়, তবে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের সময়সীমা ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, প্রথম সংসদ অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিলের শপথগ্রহণ এবং প্রতিশ্রুত ১৮০ দিনের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আর কত সময় প্রয়োজন, তা সরকারের সংসদে স্পষ্ট করা উচিত।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, ১১ দলীয় জোটের ঐক্য নাশকতার যেকোনো চেষ্টা নস্যাৎ করে দেবে। কর্মসূচাকালে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা হামলা হলে সরকার ও বিএনপিকে তার দায় নিতে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

তিনি একাধিক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন এবং দাবি করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির খবরের প্রকাশ ঠেকানো হচ্ছে।

১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও দুর্নীতি রোধে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

এদিকে, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে রাজপথের আন্দোলনের হুমকি না দিয়ে সংসদে বিকল্প পরিকল্পনা তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

ঢাকায় এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ‘গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিয়ে লংমার্চ ও কর্মসূচি করবেন–ঠিক আছে। কিন্তু বিকল্প কী, তা আমাদের বলুন। কীভাবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করবেন? কোথা থেকে এগুলো পাবেন এবং কীভাবে?’

রিজভী বলেন, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সংসদে এসব বিষয় তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে। সমালোচনা ও রাজপথের কর্মসূচি গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হলেও সংকটের সমাধানও দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জ্বালানি সংকটের পেছনে ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়াকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকারের কোনো পদক্ষেপের কারণে এই সংকট সৃষ্টি হয়নি।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর