অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে সম্পদের তথ্য গোপনের মামলায় বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক সার্জেন্ট ও বর্তমানে ব্যবসায়ী বেলায়েত হোসেনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৮৯ লাখ ২৭ হাজার ৭৪২ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এ ছাড়া দুদক আইনের অপর একটি ধারায় তাকে আরও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, নোয়াখালীর সুধারাম উপজেলার নরসিংহপুর গ্রামের বাসিন্দা বেলায়েত হোসেন বাংলাদেশ পুলিশের সার্জেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি ব্যবসায় যুক্ত হন। চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর হাউজিং এস্টেটের আই-ব্লকের ১ নম্বর রোডের ২ নম্বর প্লটে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন তিনি।
নোয়ান্নাই গ্রামের বাসিন্দা বেলায়েত হোসেনকে ২০০৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তার সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ দেয় দুদক। ওই বছরের ১৬ অক্টোবর তিনি তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিবরণী জমা দেন। ১১ নভেম্বর তার বিবরণীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।
তবে, দুদকের অনুসন্ধানে তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে বড় ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়ে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, তিনি ৫৮ লাখ ৫৮ হাজার ৭১৫ টাকা স্থাবর এবং ২৭ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৯ টাকা মূল্যের মোট ৮৫ লাখ ৭৮ হাজার ২৮৪ টাকা সম্পদ অর্জনের ঘোষণা দেন।
দুদকের তদন্তে তার নামে ১ কোটি ২৪ লাখ ১১ হাজার ৮৯৪ টাকার স্থাবর এবং ২৭ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৯ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ১ কোটি ৫১ লাখ ৬১ হাজার ৪৬৩ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এতে তিনি ৬৫ লাখ ৮৩ হাজার ১৭৯ টাকা গোপন করেন।
অপরদিকে তার বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া যায়, ১ কোটি ৩৭ লাখ ৬৮ হাজার ৮৪৭ টাকার। তার আয়কর নথিতে ঘোষিত ব্যয় ও খরচ পাওয়া যায় ৮৪ লাখ ৮ হাজার ৬৯১ টাকা। এতে অর্জিত সম্পদ ও পারিবারিক ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ৩৫ লাখ ৭০ হাজার ১৫৪ টাকা। এক্ষেত্রে তার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ পাওয়া যায় ৯৮ লাখ ১ হাজার ৩০৭ টাকার। সম্পদ বিবরণী যাচাই করে দুদক দেখতে পায়, বেলায়েত দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে তার নিজ নামের বিপরীতে মোট ৬৫ লাখ ৮৩ হাজার ১৭৯ টাকা মূল্যের সম্পদ গোপন করেন।
এ ঘটনায় দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২-এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. মনজুর আলম বাদী হয়ে ২০০৯ সালের ২০ জুলাই হালিশহর থানায় মামলা করেন।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ২৮ ডিসেম্বর দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. ফখরুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে ২০১১ সালের ২০ অক্টোবর চট্টগ্রামের স্পেশাল জজ আদালতের তৎকালীন বিচারক মো. আতাউর রহমান আসামির বিরুদ্ধে দুদক আইনের দুটি ধারায় অভিযোগ গঠন করেন।
মামলার বিচারকাজে রাষ্ট্র ও দুদকের পক্ষে ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। আসামিও নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন। রায়ে দুদক আইনের একটি ধারায় বেলায়েত হোসেনকে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ৮৯ লাখ ২৭ হাজার ৭৪২ টাকা জরিমানা করা হয়। একই আইনের আরেকটি ধারায় তাকে আরও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
দুদকের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল করিম রনি। তিনি বলেন, আদালতে অনুপস্থিত থাকায় বেলায়েত হোসেন গ্রেপ্তার হওয়ার পর অথবা আদালতে আত্মসমর্পণের পর তার সাজা কার্যকর হবে।
আরও পড়ুন: যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা, পুলিশ সার্জেন্টের ১ বছরের কারাদণ্ড


