চট্টগ্রামে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ওয়াসিম আকরামসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদনের শুনানি হয়েছে।
শুনানিতে তার আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী দাবি করেন, মামলার ঘটনাস্থল চট্টগ্রাম মহানগর হলেও ফজলে করিম ছিলেন অন্য আসনের সংসদ সদস্য এবং সেখানে তার উপস্থিতি বা সংশ্লিষ্টতার পক্ষে প্রসিকিউশন কোনো তথ্যপ্রমাণ বা সাক্ষী হাজির করতে পারেনি।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ করে। আগামী ১৩ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
শুনানিতে এহসানুল হক সমাজী বলেন, কোনো অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে তারিখ, সময় ও স্থান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু ফজলে করিমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সমর্থনে প্রসিকিউশন কোনো তথ্যপ্রমাণ বা সাক্ষী হাজির করতে পারেনি।
তিনি বলেন, মামলার ঘটনাস্থল চট্টগ্রাম মহানগর এলাকা। অথচ তিনি অন্য আসনের সংসদ সদস্য। ফজলে করিম ঘটনাস্থলে ছিলেন, প্রসিকিউশন এমন কোনো কিছু যদি দেখাতে না পারে, তাহলে রিভিউ আবেদনটি বিবেচনায় নেওয়া হোক।
এর আগে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে গত ৩০ জুন অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।
অভিযোগ গঠনের ওই আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচ আসামি। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর প্রথম দিনের মতো শুনানি হয়। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় শুনানি অনুষ্ঠিত হলো।
মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচ আসামি হলেন সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফিরোজ ও দেবাশীষ পাল দেবু। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, সব আসামিই আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
তদন্ত শেষে গত ২ এপ্রিল তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন প্রসিকিউশন কার্যালয়ে জমা দেয়। যাচাই-বাছাই শেষে প্রসিকিউশন তা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ হিসেবে দাখিল করে।
মামলায় মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামে মো. ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যা করা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগে ১৮ জুলাই তানভীর সিদ্দিকী, মো. সাইমন ও হৃদয় চন্দ্রকে হত্যার কথা বলা হয়েছে। তৃতীয় অভিযোগে একই ঘটনাপ্রবাহে শতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ছাড়া পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচ এম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে।


