রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মামলা হওয়ার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এদিকে মামলার বাদী মনির হোসেন দাবি করেছেন, মামলার বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না এবং তাকে জোর করে অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়েছে।
মামলার তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আমরা এবিষয়ে তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলতে পারব।’
গত সোমবার জিয়া হলের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. মনির হোসেন বাদী হয়ে নগরের মতিহার থানায় অজ্ঞাতনামা মামলা করেন।
মনির বলেন, ‘৫ তারিখে প্রভোস্ট স্যার আমাকে থানায় যেতে বলেন। তিনি আমাকে জানান যে আমাকে কিছু করতে হবে না, শুধু মতিহার থানায় গিয়ে স্বাক্ষর করতে হবে। আমাকে জোর করে স্বাক্ষর করানো হয়েছে। মামলার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। সেখানে গিয়ে স্বাক্ষর করার সময় দেখি, আসামিদের নাম অজ্ঞাত হিসেবে দেওয়া হয়েছে। হলের প্রভোস্ট আমাকে জানিয়েছেন, তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাপে রয়েছেন। এর বাইরে আমি কিছু জানি না।’
তবে হামলার ভিডিও ফুটেজ ও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের মাধ্যমে হামলায় জড়িতদের পরিচয় প্রকাশ্যে আসার পরও অজ্ঞাতনামা মামলা হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিকরা।
ভুক্তভোগী ও বিডিনিউজ ২৪-এর রাবি প্রতিনিধি আরিফ উজ জামান কোরবান বলেন, ‘হল প্রশাসন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। অথচ যারা সেদিন আমাদের মারধর করেছে, তারা নিয়মিত ফেসবুকে পোস্ট করছে। তাদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। বরং তারা আমাদের শিবিরের সদস্য ও গুপ্ত বলে প্রচার করছে।’
তিনি বলেন, ‘তাদের কয়েকজনকে ওই ঘটনায় সম্পৃক্ততার কারণে ছাত্রদল থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। তারপরও প্রশাসন বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছে। তারা আবার আমাদের ওপর হামলা করবে না এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। এখন নতুন করে আবারও হামলার আশঙ্কা নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে।’
গত রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হন।
গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, বিডিনিউজ২৪-এর প্রতিনিধি আরিফ উজ জামান কোরবান এবং সমকালের প্রতিনিধি মাইনুল ইসলাম রাজু।
হামলার ঘটনায় যাদের নাম সামনে এসেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও আইন বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এম আহসান হাবীব, ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম হাসিব এবং অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বিশাল চক্রবর্তী।
এছাড়া ছাত্রদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক ও সংগীত বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম অথী, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শরীফুল ইসলাম, ছাত্রদলের সহসভাপতি ও আইবিএর ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাকবীর হাসান ইমন এবং ছাত্রদলের সহ- সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সৈয়দ সাজহারুল ইসলামের নামও হামলায় জড়িত হিসেবে এসেছে।


