জাহাজশিল্পে বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলার আয় দেখছে সরকার

জাহাজশিল্পে বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলার আয় দেখছে সরকার
বাণিজ্যমন্ত্রী আনোয়ারা উপজেলায় কর্ণফুলী ড্রাইডক পরিদর্শন করেন। ছবি: সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

জাহাজ নির্মাণ ও পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ খাত থেকে ভবিষ্যতে বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সম্ভাবনা দেখছে সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা কাজে লাগাতে এ দুই খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে নীতিগত ও অবকাঠামোগত সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেডের (সিডিডিএল) সম্মেলন কক্ষে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরে বিশ্বজুড়ে কয়েক হাজার পুরোনো জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের আওতায় আসবে। এই বিশাল বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বাংলাদেশে পরিবেশসম্মত গ্রিন শিপইয়ার্ডের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে বেশ কয়েকটি অনুমোদিত গ্রিন ইয়ার্ড রয়েছে এবং আরও কিছু অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

তিনি বলেন, জাহাজ নির্মাণ ও পুনঃপ্রক্রিয়াকরণে দেশের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি রপ্তানি সম্প্রসারণে সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত ও অবকাঠামোগত সহায়তা দেবে। দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বেসরকারি শিপইয়ার্ডগুলোর ব্যাংক গ্যারান্টি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জাহাজ রপ্তানি বাড়াতে আন্তর্জাতিক মান ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাজারে প্রবেশ করতে হলে আন্তর্জাতিক মানের নকশা ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্যে নরওয়ে ও নেদারল্যান্ডসের মতো দেশের অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে আধুনিক ডিজাইন ও দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা চলছে।

আরও পড়ুন

বেসরকারি শিপইয়ার্ডগুলোর রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়নে ব্যাংক গ্যারান্টি সংকটকে অন্যতম বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ সমস্যা সমাধানে নৌবাহিনীর অধীন ডকইয়ার্ডগুলোর সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে ‘হাইব্রিড মডেল’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, এ ব্যবস্থায় সরকারি তত্ত্বাবধানে ব্যাংক গ্যারান্টি সুবিধা কাজে লাগিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো জাহাজ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করতে পারবে। এতে রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়নে বেসরকারি শিপইয়ার্ডগুলোর সক্ষমতা বাড়বে।

দুই খাতের উন্নয়নে নৌপরিবহন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি কাজ করবে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

সভায় কর্মকর্তারা বড় আকারের জাহাজ নির্মাণে চট্টগ্রাম ড্রাইডকের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। এ সক্ষমতা কাজে লাগাতে আধুনিক ক্রেন, ফ্যাব্রিকেশন শপ, নকশা প্রণয়নের সুবিধা এবং অতিরিক্ত নির্মাণ ডক স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তারা।

মতবিনিময়ে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, ডকইয়ার্ডের এরিয়া সুপারিনটেনডেন্ট রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. রুহুল মিনহাজ এবং চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। এ ছাড়া নৌবাহিনী ও সিডিডিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে বাণিজ্যমন্ত্রী আনোয়ারা উপজেলায় কর্ণফুলী ড্রাইডক পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad