রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান টাইমস অব বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলভাবে শেষ হওয়ার পর দেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুমোদন দেওয়া হলো। রাশিয়া থেকে আসা পাঁচজন পরমাণু বিশেষজ্ঞ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে থাকবেন বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বর্তমানে দেশে তীব্র জ্বালানি সংকট চলছে, প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছেছে লোডশেডিং। বিদ্যুতের এমন তীব্র ঘাটতিতে জনদুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি কলকারখানায় উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। এই বিপদের দিনে রূপপুর থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এলে সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাবে।
গত ২৮ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি বা রড লোড করার কাজ শুরু হয়। তখন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের মধ্যেই ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।
এরপর ১২ জুন পাবনার ঈশ্বরদীতে এক বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, আগস্টের শেষ নাগাদ এই কেন্দ্রের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। তিনি আরও জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে পুরোদমে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।
তবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ভালভের সমস্য দেখা দেওয়ার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় পিছিয়ে যায়। পরে রাশিয়া থেকে পাঁচজনের একটি পরমাণু বিশেষজ্ঞ দল এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ভালভের সমস্যা সমাধান করে। এর ফলে এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিতে পারবে রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রতিটি ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট’ এটি তৈরি করছে। পুরো কেন্দ্র চালু হলে এটি দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১৫ শতাংশ মেটাতে পারবে।
সাধারণ জীবাশ্ম জ্বালানির চেয়ে রূপপুর থেকে কম খরচে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে বলে আশা করা হলেও, বিদ্যুতের দর কত হবে সরকার এখনো তা চূড়ান্ত করেনি।
মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকারী রুশ প্রতিষ্ঠান রোসাটমের সঙ্গে দাম নিয়ে আলোচনা এখনো শেষ হয়নি।’
কর্মকর্তারা বলছেন, শুরুতে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিতে দেরি হওয়ার কারণে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে পুরো ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রাও পিছিয়ে যেতে পারে। এতে চূড়ান্ত সময়সীমা অন্তত এক মাস পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। তবে জাতীয় গ্রিড রূপপুরের বিদ্যুৎ নেওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে তারা নিশ্চিত করেছেন।


