কারাগার থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা-নেওয়ার পথে জীবননাশের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শতাধিক গুম ও হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান।
তার এই আশঙ্কার পর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাকে সশরীরে ট্রাইব্যুনালে হাজির না করে কারাগার থেকেই ভার্চ্যুয়ালি মামলার শুনানিতে যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে প্রসিকিউশন।
বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বিষয়টি আদেশের জন্য রেখেছে।
মামলার শুনানির সময় জিয়াউল আহসান নিজেই তার নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন বলে জানান প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
তিনি বলেন, জিয়াউল আহসান ট্রাইব্যুনালে বলেছেন, ‘আমি আশঙ্কা করছি, আমাকে যখন জেলখানা থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়, তখন রাস্তায় কোনো না কোনো একটা ঘটনা কেউ ঘটিয়ে আমার উপরে দায় চাপাতে পারে।’
এই আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তাকে ট্রাইব্যুনালে সশরীরে হাজির না করে কারাগারে রেখেই অডিও-ভিজ্যুয়াল কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানিতে যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তামিম।
তিনি বলেন, ‘উনি যেহেতু আশঙ্কা করছেন, আসা-যাওয়ার পথে কোনো না কোনো ঘটনা বা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, অথবা অন্য কেউ ঘটিয়ে তার ওপর দায় চাপাতে পারে, প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আমাদের আবেদন হলো, তাকে ট্রাইব্যুনালে স্বশরীরে উপস্থাপন না করে জেলখানাতে রেখে অডিও-ভিজ্যুয়াল কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানি করা হোক।’
এদিকে, জিয়াউল আহসানের আইনজীবী নাজনীন নাহার বলেন, ২০২৪ সালে এই ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরুর সময় থেকে কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে বন্দিদের একসঙ্গে একই গাড়িতে করে ট্রাইব্যুনালে আনা হচ্ছে। কিন্তু গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে জিয়াউল আহসানকে একা একটি গাড়িতে করে আনা হচ্ছে।
নাজনীন নাহার বলেন, অন্য বন্দীদের ঠিকই ওই কেরানীগঞ্জ থেকে একসঙ্গে সাথে নিয়ে আসা হয়। একা নিয়ে আসাটাকে একটা গভীর ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে তিনি আদালতের কাছে আবেদন করেছেন, জিয়াউল আহসানকে যেন একা একটি গাড়িতে না এনে অন্যান্য বন্দীর সঙ্গে একই গাড়িতে আনা হয়। আদালত বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছেন বলেও জানান নাজনীন নাহার। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি আদেশের জন্য রেখেছে।


