যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনায় উদ্বেগ এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে দলটি।
শনিবার এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, মাত্র ২৪২টি পদের বিপরীতে প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার প্রার্থী এ নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। অর্থাৎ প্রতিটি পদের বিপরীতে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৩২০ জন প্রতিযোগিতা করছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুতর ব্যর্থতার প্রশ্ন সামনে এনেছে।
এনসিপি জানায়, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ আগের রাত থেকেই ছড়িয়ে পড়েছিল বলে পরীক্ষার্থীরা জানিয়েছেন। দূরদূরান্ত থেকে ঢাকায় এসে যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও প্রস্তুতির পেছনে অর্থ ও সময় ব্যয় করার পর শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা তাদের ভোগান্তি বাড়িয়েছে। এ ঘটনায় চাকরিপ্রার্থীরা আর্থিক ক্ষতি ও মানসিক চাপের মুখে পড়েছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শুধু পরীক্ষা স্থগিত করলেই এ সংকটের সমাধান হবে না। প্রশ্নপত্র কীভাবে ফাঁস হলো, কারা জড়িত এবং দায়িত্বে অবহেলা বা যোগসাজশ ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করতে হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং তদন্তের অগ্রগতি জনসমক্ষে তুলে ধরার দাবি জানায় দলটি।
এনসিপি আরও দাবি করেছে, ১৬ অক্টোবরের নির্ধারিত পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিতরণের প্রতিটি ধাপে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পরীক্ষায় অংশ নিতে এসে যাতায়াত ও আবাসন বাবদ ক্ষতিগ্রস্ত প্রার্থীদের ক্ষতিপূরণ বা উপযুক্ত প্রতিকারের বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে।
বিবৃতিতে এনসিপি বলেছে, সরকারি চাকরির নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। চাকরিপ্রার্থীদের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো অনিয়ম বা প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে তাদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।


