জুলাই গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই এবং মামলা নিয়ে বাণিজ্য চলছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা মামলার জটিলতা, সাক্ষীর সংকট ও বাণিজ্যের শিকার হচ্ছেন। তাদের কর্মসংস্থান ও ভাতার প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি।
মঙ্গলবার রাজধানীতে এনসিপির কার্যালয়ে ‘জুলাই গণহত্যার বিচার: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ব্যবধান’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত বলেন, বিচারকাজ সরকারের কাছে দায়সারা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপির মুখে জুলাই, অন্তরে আওয়ামী লীগ।
তিনি অভিযোগ করেন, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে না জানিয়ে ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। পরে টাকার বিনিময়ে তা মীমাংসা করা হচ্ছে। বর্তমান আইনমন্ত্রী ভোটের স্বার্থে আওয়ামী লীগ নেতাকে জামিন করিয়েছেন। এটি সারা দেশের চিত্র। বিএনপির পুরনো ও নতুন উভয় অংশের কিছু নেতা এসব মামলা বাণিজ্যে জড়িত।
সরকারের কর্মসংস্থানের তথ্যকে ভুয়া দাবি করে তিনি বলেন, এক কোটি কর্মসংস্থানের বদলে ৩০ লাখের দাবি করা হচ্ছে। তরুণদের দোকানপাট দেওয়া আর সংসদ সদস্যদের পরিবারকে সার ডিলারশিপ দেওয়াকে কর্মসংস্থান দেখানো হচ্ছে। থানাগুলো বিএনপির নেতাদের আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে।
হাসনাত বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের প্রতি উদার ছিল। বর্তমান বিএনপি সরকার আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। সাজাপ্রাপ্তরা পলাতক বা বিচারহীন রয়েছে। শুধু ব্যক্তি নয়, দল হিসেবেও আওয়ামী লীগের বিচার হতে হবে।
বিএনপি সরকারকে ‘ফিটনেসবিহীন গাড়ি’র সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, স্টিয়ারিং ও ইঞ্জিন ঠিক না থাকলে দক্ষ চালক তারেক রহমানও দুর্ঘটনা এড়াতে পারবেন না। অর্থনীতির সব খাত সংঙ্কটে, সরকার ব্যবসার কেন্দ্র হয়েছে। তৃণমূল কর্মীদের অন্ধ আনুগত্য ছেড়ে অধিকার সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, বিদেশের আসামিদের ফেরানো বা বিচারে অগ্রগতি নেই। অপরাধীরা রাজনৈতিক সুরক্ষা পাচ্ছে। চাঁদাবাজিতে অভিযুক্তদের সাজা না দিয়ে পদত্যাগ করানো হচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ১৭ বছর নির্যাতন সহ্য করার অজুহাতে চাঁদাবাজির অধিকার মেলে না। জনগণের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করলে বিএনপির জন্য তা বুমেরাং হবে। ‘খাল কেটে কুমির আনার’ প্রজেক্ট কারও জন্য শুভ হবে না।


