কুমিল্লায় জান্নাতুল তাজমিন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা কথিত প্রেমিক রিয়াজ উদ্দিন রাজুর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে কক্সবাজার সদর থানায় মামলাটি করা হয়। তাজমিনকে প্রলোভন দেখিয়ে কক্সবাজারে এনে ধর্ষণের অভিযোগ আদালতে উপস্থাপনের পর এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার জেলা পুলিশের ফোকাল পয়েন্ট ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. অহিদুর রহমান।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার সদর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইরফানুল হক চৌধুরীর আদালতে এক আইনজীবী তাজমিনকে রাজুর কক্সবাজারে নিয়ে আসা এবং ধর্ষণের অভিযোগ তুলে ধরেন। এ সময় তাজমিনের বয়সের বিষয়টিও আদালতের নজরে আনা হয়। পরে আদালত ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের একজন কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
এ বিষয়ে মো. অহিদুর রহমান বলেন, “আদালতে তাজমিনকে কক্সবাজারে নিয়ে আসা ও ধর্ষণের অভিযোগ উপস্থাপন করা হলে আদালত মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন। পরে সেই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি করা হয়েছে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে রাজুর পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর ভোরে কক্সবাজারে পৌঁছায় তাজমিন। ওই দিন তারা শহরের কলাতলী এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওঠেন। পরদিন দুপুরে তাজমিন একাই বাসে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেয়। সেখানে পৌঁছানোর পর সে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়।
তাজমিন হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গত রোববার রাত ৯টার দিকে কক্সবাজার শহরের হোটেল-মোটেল জোনের কলাতলী এলাকা থেকে রাজুকে আটক করা হয়। পরদিন সোমবার দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লা পুলিশের একটি দল কক্সবাজার সদর থানায় আসে। পরে রাজুকে নিয়ে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হলেও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে কক্সবাজার আদালতে সোপর্দ করা হয়।
তাজমিন হত্যা মামলার পাশাপাশি ধর্ষণের অভিযোগে নতুন মামলা হওয়ায় রাজুর বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়ার পরিধি আরও বিস্তৃত হলো। তবে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে এখনো আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে দোষী সাব্যস্ত করার সুযোগ নেই।


