বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্যখাতে নিউক্লিয়ার মেডিসিনের সুফল জেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ চলছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে একথা বলা হয়। কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর সভাপতিত্বে বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আনোয়ার হোসেন ছাড়াও মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তর সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে জানানো হয় , রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের প্রাথমিক ফিজিক্যাল ও ক্রিটিক্যালিটি টেস্ট সফলভাবে শুরু হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন ‘রোসাটম’ কোম্পানির সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে আশা করা হচ্ছে আগামী নভেম্বরের মধ্যে এই মেগা প্রকল্প থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। এছাড়া, দ্বিতীয় ইউনিটের ফুয়েল লোডিং বা রিঅ্যাক্টর চালুর প্রক্রিয়া আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে চলেছে।
প্রকল্পটির নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত দিক নিয়ে বলা হয়, এটি থার্ড জেনারেশনের একটি সর্বাধুনিক ও নিরাপদ পারমাণবিক প্ল্যান্ট। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে এবং বিশেষজ্ঞদের কঠোর তত্ত্বাবধানে এর প্রতিটি ধাপ বাস্তবায়িত হচ্ছে, ফলে এ নিয়ে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ নেই। আন্তর্জাতিক এনার্জি বিশেষজ্ঞদের মতেও প্রকল্পটি সঠিক পথেই রয়েছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্যখাতে নিউক্লিয়ার মেডিসিনের সুফল জেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ এবং দেশের প্রথম রিসার্চ ভেসেল (গবেষণা জাহাজ) নির্মাণের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। সভা সূত্রে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয় যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সকল কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হবে।
এছাড়াও বৈঠকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে উদ্ভাবনী শক্তি জাগ্রত করার লক্ষ্যে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে জাঁকজমকপূর্ণভাবে বিজ্ঞান মেলা আয়োজনের সুপারিশ করা হয় এবং নতুন কিছু উদ্ভাবন করে তা বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।


