সারের ডিলার নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তি এবং নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগ্যতা যাচাইয়ের মানদণ্ড প্রকাশসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বৃহস্পতিবার জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব দাবি জানান।
জামায়াতের ছয় দাবির মধ্যে রয়েছে ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা; নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগ্যতা মূল্যায়নের মানদণ্ড ও লাইসেন্স প্রদানের ভিত্তি প্রকাশ করা; ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া; সারসংকট নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের ভিত্তি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা; দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের লিখিত ব্যাখ্যা ও তদন্তের অগ্রগতি জনসমক্ষে তুলে ধরা; এবং প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ যাচাই করে কাউকে দায়ী করা।
মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতাকর্মী ও তাদের আত্মীয়স্বজনকে ডিলারশিপ দেওয়া হচ্ছে। এসব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
ডিলার নিয়োগে ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, আর্থিক সক্ষমতা ও নিজস্ব গুদামের মতো যোগ্যতা যাচাইয়ের বিধান থাকলেও তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন জামায়াতের এই নেতা। তার দাবি, বিভিন্ন এলাকায় সরকারি দলের সংসদ সদস্য ও নেতারা নিয়োগের তালিকা প্রভাবিত করেছেন। কোথাও কোথাও দলীয় প্যাডে দেওয়া তালিকা অনুসারে ডিলার নিয়োগের অভিযোগও তোলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে অর্থের বিনিময়ে ডিলারশিপ দেওয়া, ভুয়া গুদাম দেখানো, অন্য এলাকার বাসিন্দাদের নিয়োগ এবং একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তিকে ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সারের পর্যাপ্ত মজুত থাকার কথা বলা হলেও বিভিন্ন এলাকায় সংকট, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি এবং সার না পেয়ে কৃষকদের ভোগান্তির খবর প্রকাশিত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘যদি সরকারের কথা সত্য হয়, তাহলে সংকট হয়েছে দুর্নীতিবাজের মিসম্যানেজমেন্ট, ব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, চোরাকারবারি এবং কালোবাজারিতে।’
সারসংকট নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। জামায়াতের সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় সংকটের জন্য দলটিকে দায়ী করা হলেও বিএনপির সংসদ সদস্যদের প্রতিনিধিত্বকারী অন্তত ১৪টি আসনেও একই ধরনের সংকট ও কৃষকদের ভোগান্তির খবর প্রকাশিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘সার হলো কৃষি মন্ত্রণালয়ের, কিন্তু স্থানীয় সরকারের প্রতিমন্ত্রী যত কথা সার নিয়ে বলতেছেন, মানুষ বুঝতে পারে না যে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কার?’
জামায়াতের সংসদ সদস্যরা নিজেরা ডিলারশিপ না পাওয়ার অভিযোগ করছেন না উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, যোগ্য ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক পরিচয় ও আত্মীয়তার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদ করছেন তারা।
তার ভাষায়, ‘এই ব্যবসা যারা প্রকৃতভাবে করে, যাদের ক্যাপাসিটি আছে, তারা পাওয়ার যোগ্য। তারা পাক।’
প্রতিটি উপজেলায় নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগ্যতা ও নির্বাচনের ভিত্তি প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তথ্য প্রকাশ করুক। আমরা এই তথ্য দাবি করেছি।’
সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিরোধী দলকে যথাযথভাবে সম্পৃক্ত না করে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার মতে, গণভোটে অনুমোদিত সংস্কারের আইনি কাঠামো অনুসরণ করে সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
সার, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রভাব কৃষি উৎপাদন, পরিবহন ব্যয় ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় পড়ছে উল্লেখ করে এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপও দাবি করেন জামায়াতের এই নেতা।


