মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
কমিটির সভাপতি জাহরাত আদিব চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার পাশাপাশি আশ্রয়শিবিরের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সরকারকে লিখিত সুপারিশ দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয়ে সরকারি প্রতিনিধি, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, এনজিও ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।
জাহরাত আদিব চৌধুরী বলেন, ‘এখানে অবশ্যই জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই সমস্যাগুলো সমাধানের প্রস্তাব দেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বর্তমানে বহুমুখী সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে অর্থসহায়তা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও আইনশৃঙ্খলাসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে সংসদীয় কমিটির সভাপতি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। এসব প্রস্তাবের আলোকে প্রত্যাবাসন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখা জরুরি।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে বিমানযোগে কক্সবাজার পৌঁছান সংসদীয় কমিটির ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল। পরে তারা সরাসরি উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শনে যান। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত তারা কয়েকটি আশ্রয়শিবিরে মানবিক সেবামূলক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। এ সময় কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী তাদের সঙ্গে ছিলেন।
প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন এস কে আজিজুল বারী, সৈয়দ সাঈদ আল নোমান, সানজিদা ইসলাম তুলি ও মীর আহমদ বিন কাসেম।
পরিদর্শনকালে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা রোহিঙ্গাদের জীবনযাপন, আশ্রয়শিবিরের সার্বিক পরিস্থিতি, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম এবং প্রত্যাবাসনের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গা কমিউনিটির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে তাদের বিভিন্ন সমস্যা, চাহিদা ও প্রত্যাশার কথা শোনেন।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিনিধিদলটি উখিয়ার ৬ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে অবস্থিত আরাকান ও মিয়ানমারের ঐতিহ্যকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। পরে ৯ নম্বর আশ্রয়শিবিরে তুর্কি ফিল্ড হাসপাতাল এবং ৪ নম্বর আশ্রয়শিবিরে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) পরিচালিত খাদ্য বিতরণকেন্দ্র ঘুরে দেখেন।
এ ছাড়া ৪ নম্বর আশ্রয়শিবিরের ক্যাম্প ইনচার্জের (সিআইসি) কার্যালয়ে রোহিঙ্গা যুবক ও নারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারা। এ সময় রোহিঙ্গাদের বর্তমান পরিস্থিতি, প্রয়োজনীয় সেবা এবং ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা সম্পর্কে জানার সুযোগ পান প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।


