আগামী চার বছরের জন্য ৬৩৫ কোটি মার্কিন ডলারের বিশাল উন্নয়ন তহবিল গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জুরিখে বসতে যাওয়া ফিফা কাউন্সিলের সভায় এই প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। সভায় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং সংস্থাটির নির্বাহী পরিষদের অন্য ৩৬ সদস্য উপস্থিত থাকবেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত মেয়াদের এই তহবিলে মূলত ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে আসা বিপুল বাণিজ্যিক আয় এবং ফিফার নিজস্ব সঞ্চিত অর্থের একটি বড় অংশ ব্যবহার করা হবে। প্রস্তাবিত এই ফান্ড থেকে ফিফার আওতাধীন ২১১টি সদস্য ফুটবল ফেডারেশন এবং সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কনফেডারেশনগুলোকে অনুদান দেওয়া হবে।
সংবাদ সংস্থা এপি প্রথম এই মেগা তহবিলের খবর প্রকাশ করে। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে ফিফার প্রতিটি সদস্য দেশ ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার (প্রায় ২৫ মিলিয়ন ডলার) করে পাবে।
এই তহবিলের অর্থের পরিমাণ ফিফা প্রধানের দুই কড়া সমালোচক ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থার (উয়েফা) সভাপতি আলেকসান্দার সেফেরিন এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থার (কনকাকাফ) প্রধান ভিক্টর মন্টাগলিয়ানির প্রস্তাবিত ১ কোটি ডলারের চেয়ে অনেক বেশি।
বিশ্ব ফুটবলের প্রশাসনিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই আগামী বৃহস্পতিবারের এই গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা গত ২৮ এপ্রিলের পর ফিফা কাউন্সিলের প্রথম বৈঠক। এর আগে চলতি বছরের মাঝামাঝিতে ফিফার বিশ্বকাপ সহ মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করার বিষয়ে ইনফান্তিনোর আগ্রাসী মনোভাবের কারণে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়। উয়েফা, কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) তীব্র বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয় ফিফা।
পরবর্তীকালে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ফুটবলের পরিচালনা কাঠামো সংস্কারে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন ইনফান্তিনো। সংস্কার সংক্রান্ত প্রাথমিক পর্যালোচনাগুলোও বৃহস্পতিবারের সভায় উঠতে পারে।
২০১৬ সাল থেকে ফিফার মসনদে থাকা ৫৬ বছর বয়সী ইনফান্তিনো ২০২৭ সালের মার্চে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে পুনরায় সভাপতি পদে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সভাপতি পদের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ১৮ নভেম্বর। তবে বিরোধীরা এখনো ইনফান্তিনোর বিপরীতে ঐক্যবদ্ধ কোনো শক্ত প্রার্থী দাঁড় করাতে পারেনি। উয়েফা প্রধান সেফেরিন নিজের সংস্থাতেই পুনরায় থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং কনকাকাফ প্রধান মন্টাগলিয়ানিও নিজ সংস্থায় দ্বিতীয় মেয়াদে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন।


