কক্সবাজারে উখিয়ায়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগার ঘটনায় ১০টি মরদেহ উদ্ধারের পর আরও একজন নিখোঁজ থাকার সন্দেহে ধ্বংসস্তূপে পুনরায় তল্লাশি শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিস।
শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ধ্বংসস্তূপ থেকে ১০টি মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়। তবে স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ১১ জন নিখোঁজ থাকার বিষয়টি সামনে আসায় সম্ভাব্য আরও একজনের মরদেহের সন্ধানে রোববার সকাল থেকে আবারও ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার জানান, হিসাব অনুযায়ী এখনো একজন ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে ধ্বংসস্তূপের সব জায়গায় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খোঁজা সম্ভব হয়নি। রিসোর্টটির ওপরের তলাগুলো কাঠের তৈরি হওয়ায় সেগুলো ভেঙে নিচে পড়েছে, ফলে নিচতলায় কেউ চাপা পড়ে থাকতে পারেন–এই কারণে নতুন করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো পুড়ে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় সেগুলো ১০ জনের, নাকি এর চেয়ে বেশি মানুষের, তা ফরেনসিক পরীক্ষার আগে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
রোববার সকালে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহানের নেতৃত্বে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
তাসনীম জাহান বলেন, এখন পর্যন্ত ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হলেও সেগুলোর অবস্থা এমন যে ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিতভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব নয়। তবে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর নিকটাত্মীয়দের অনেকেই তদন্ত কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং তাদের নাম-ঠিকানাসহ বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জানান, আরও একজনের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলেও ঘটনার সময় তিনি রিসোর্টের ভেতরে ছিলেন, নাকি বাইরে ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ওই ব্যক্তির অবস্থান নিশ্চিত করতে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ও তদন্তকারী দল মোবাইল ফোন নম্বরের তথ্য বিশ্লেষণ করে খোঁজ নিচ্ছে। কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাদের বক্তব্যের সঙ্গে রিসোর্টসংক্রান্ত নথিপত্র মিলিয়ে দেখছেন।
তিনি আরও বলেন, রিসোর্টটি নির্মাণের সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না এবং অগ্নিনিরাপত্তাসহ অন্যান্য নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধান ও নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাইয়ে গঠিত এই কমিটিতে বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা রয়েছেন, যারা নিজ নিজ ক্ষেত্র থেকে কারিগরি বিষয়গুলো মূল্যায়ন করবেন। বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ও তদারকির ক্ষেত্রে সমন্বয়ের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তদন্তকাজ দ্রুত শেষ করতে কমিটিকে পাঁচ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।


