সৌদি আরবের মক্কায় দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশন বিষয়টি সম্পর্কে অজ্ঞাত থাকা প্রবাসী নাগরিকদের সুরক্ষা ও কনস্যুলার সহায়তা ব্যবস্থার গুরুতর ব্যর্থতার আশঙ্কা তৈরি করেছে বলে মনে করেন সংগঠনের কর্মকর্তারা।
বৃহস্পতিবার এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলামের পাঠানো বিবৃতিতে এ শঙ্কা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৪ অক্টোবর নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সুইটি আক্তার নামের দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি আরবের সরকার। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, বিচারপ্রক্রিয়া, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং আইনি সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে থাকা পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা জরুরি।
এইচআরএসএস মনে করে, বিদেশে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের অধিকার, ন্যায়বিচার ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ ঘটনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও কনস্যুলেটের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। দায়িত্বে অবহেলা বা সমন্বয়হীনতা ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের দাবি করে সংগঠনটি।
মানবাধিকার সংগঠনটি বিবৃতিতে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে। সেগুলো হলো- সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দুই বাংলাদেশির মামলা, বিচার, দণ্ডাদেশ ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পূর্ণাঙ্গ নথি সংগ্রহ করে জনসমক্ষে প্রকাশ করা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে এ ঘটনায় তাদের ভূমিকা, দায়িত্ব পালনের ঘাটতি এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য কেন যথাসময়ে জানা যায়নি—তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা জনসমক্ষে জানানো, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অবহেলা বা দায়িত্বে ব্যর্থতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের আইনানুগ শাস্তি নিশ্চিত করা, সৌদি আরবসহ বিদেশের কারাগারে আটক বাংলাদেশিদের হালনাগাদ তালিকা তৈরি করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য যোগ্য আইনজীবী, কনস্যুলার যোগাযোগ এবং আইনসম্মত আপিলের সুযোগ নিশ্চিত করা, নিহতদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগের মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা সংগ্রহ করা, বিদেশে বাংলাদেশিদের গ্রেপ্তার, বিচার ও দণ্ডাদেশের তথ্য দ্রুত সংগ্রহ, নিয়মিত অনুসরণ এবং জরুরি আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়, দূতাবাস ও কনস্যুলেটের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
এইচআরএসএস মনে করে, প্রবাসী নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্ব কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। এই ঘটনায় কোনো ধরনের অবহেলা বা ব্যর্থতা ঘটে থাকলে তার দায় নির্ধারণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশে আটক সব বাংলাদেশির ন্যায়বিচার ও কার্যকর আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।


