তিন দফা বাস্তবায়নের দাবিতে রাঙামাটি-খাগড়াছড়িতে চলছে অবরোধ। ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ, সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন, এই তিন সংগঠন শনিবার আধাবেলা অবরোধ কর্মসূচির ডাক দেয়।
শনিবার সকালে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের ডাকা অবরোধে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ির প্রধান সড়কের কুতুকছড়ি বাজার এলাকা এবং খাগড়াছড়ি পানছড়ি পুজগাঙ এলাকা এবং সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে সাজেকের বাঘাইহাট ১০ নম্বর এবং মাচালং ১৪ কিলো এলাকায় টায়ার এবং গাছের গুড়ি পুড়িয়ে সড়ক অবরোধ করতে দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শনিবার রাঙামাটি পৌর এলাকা কল্যাণপুর বসা হাটেও বাস ও অটোরিকশা (সিএনিজি) চলাচল খুবই কম। রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে যান চলাচল করতে দেখা যায়নি। তবে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কিছু সংখ্যক বাস ও অটোরিকশা (সিএনিজি) চলাচল করতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে নৌপথে লঞ্চ, ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলাচল কম দেখা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে সাজেকে অবরোধের কারণে এবং সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি এমন খবর ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্কে অনেক সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক তাদের সিএনজি বন্ধ রেখেছেন।
প্রসঙ্গত, তিন দফা দাবিতে ডাকা সড়ক অবরোধে হামলা, লাঠিচার্জ ও ঘরবাড়ি-দোকান ভাঙচুরের প্রতিবাদে এবং সাজেকবাসীর দাবির সমর্থনে শনিবার রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় আধাবেলা (সকাল ৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত) শান্তিপূর্ণ সড়ক ও নৌপথ অবরোধ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানিয়েছে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ।
সাজেকের মাচলঙ এলাকার থালকুম্ভো, চিল্ল্যাতুলি, নোয়াপাড়া, লাম্বাবাক ও ভুয়োছড়ি এলাকা থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া, জেএসএসের সদস্যরা সাধারণ জনগণকে হুমকি না দেওয়া ও সেনা প্রশাসন কর্তৃক সাধারণ জনগণের ঘরবাড়ি তল্লাশি ও হয়রানি না করা- তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে অবরোধ শুরু করে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন। গত ৮ অক্টোবর প্রথম দফায় সাজেক জুড়ে অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর কয়েক দফায় অবরোধ প্রত্যাহার এবং পুনর্বহাল করে সংগঠনটি। সবশেষ গত বৃহস্পতিবার অবরোধের ডাক দেয় দুই সংগঠন।


