‘তখন সন্ধ্যা ৫টা কিংবা ৬টা বাজে। তিনি বলেছিলেন, রিয়াদ বিমানবন্দরে তার পাসপোর্টে সিল মারা হয়ে গেছে।’ সৌদি আরবে যাওয়ার আগে স্বামী শাহেদ আহম্মদের সঙ্গে এটি ছিল শেষ কথা।
গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন তিনি। এরপর আর স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি কহিনুর আক্তার কাকলী।
শুক্রবার সকালে শাহেদের মরদেহ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। স্বামীর মরদেহ নিতে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে শেষ কথোপকথনের স্মৃতি তুলে ধরেন কাকলী।
তিনি বলেন, স্বামী দুই মাসের ছুটি নিয়ে দেশে এসেও আবার সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। কেন যেতে হবে, জানতে চেয়েছিলেন তিনি। উত্তরে শাহেদ জানিয়েছিলেন, সেখানে যুদ্ধ চলছে।
কাকলী বলেন, ‘আমি যেতে দেব না, তবু সে জোর করে চলে গেল।’
শাহেদ এর আগে দুইবার সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। প্রথমবার গিয়ে তেমন কিছু করতে পারেননি। দুই বছর বসে ছিলেন। তবে এবার গিয়ে ভালো কাজ করছিলেন বলে জানান কাকলী। স্বামী তাকেও সৌদিতে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি যেতে রাজি হননি। পরে শাহেদ নিজেই ছুটি নিয়ে দেশে এসেছিলেন।
২০১৩ সালে তাদের বিয়ে হয়। এই দম্পতির দুই ছেলে রয়েছে। বড় ছেলে কাওছারের বয়স ১১ বছর, ছোট ছেলে আবদুল্লাহর ৬ বছর। দুই শিশুসন্তানের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন কাকলী।
বিমানবন্দরে শাহেদের মরদেহ নেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। পরে তিনি কহিনুর আক্তারের হাতে অনুদানের অর্থ তুলে দেন। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও অনুদান দেওয়া হয়।
মরদেহবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে তোলার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন কাকলী। এ সময় তার দুই ছেলেও মায়ের সঙ্গে কাঁদতে থাকে।
পরে সাংবাদিকরা কাকলীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বাধা দেন। এরপর কাকলী ও তার দুই ছেলেকে দ্রুত একটি কালো রঙের মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
শাহেদের মরদেহ মরদেহবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে করে বগুড়ার শাজাহানপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর এ পর্যন্ত ১১ জন বাংলাদেশির মরদেহ দেশে আনা হয়েছে।


