বান্দরবানের লামা উপজেলা থেকে নিখোঁজ হওয়ার চারদিন পর চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী এলাকা থেকে তিন কিশোরীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বান্দরবানের পুলিশ সুপার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদেরকে অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কায়ছার হামিদ জানান, মঙ্গলবার এ ব্যাপারে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে লামা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করার পর পুলিশ তদন্তে নামে।
তিনি জানান, যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হবার পর বৃহষ্পতিবার ভোর রাতে পুলিশ খুলশীর দুইটি বাসা থেকে তাদের উদ্ধার করে।
লামা উপজেলার কুমারী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. জামিল জানান, ১১ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টায় রেশমি আক্তার (১৭), তানিয়া সুলতানা (১৩) ও হালিমাতুজ সাদিয়া (১৪) ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা মুসলিম পাড়া থেকে নিখোঁজ হয়।
তিনি জানান, রেশমি আক্তারের বাড়ি ইয়াংছার বনফুর এলাকায়। সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রী তানিয়া সুলতানা ইয়াংছারমুখ মুসলিম পাড়ার বাসিন্দা। একই এলাকায় বসবাস করে হালিমাতুজ সাদিয়ার পরিবার।
তিনি জানান, যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এর ভিত্তিতে বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে বৃহষ্পতিবার ভোর রাত সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বিশেষ অভিযান চালায় লামা পুলিশ।
অভিযানে চট্টগ্রাম মহানগরী পুলিশের খুলশী থানাধীন ২নং সড়কের ১০১ নং বাসার মালিক সাইফুল ইসলামের বাসা থেকে হালিমাতুজ সাদিয়া (১৪) এবং খুলশী কনকর্ড টাওয়ার এর ১২-ই বাসা থেকে রেশমি আক্তার (১৭) ও তানিয়া সুলতানা (১৩) কে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের জানায়, কিশোরীদের দাবি তারা স্বেচ্ছায় বাসা-বাড়ির গৃহপরিচারিকার কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট মালিকদের বাসায় এসেছে। তবে ওই তিন কিশোরীর নিখোঁজ হওয়ার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
বান্দরবান জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, কার বা কাদের মাধ্যমে তারা খুলশী এলাকায় গিয়েছে, কারা তাদেরকে ওই বাসার মালিকদের সাথে পরিচয়ের সূত্র হিসেবে কাজ করেছে, এসব তথ্য বের করতে গোয়েন্দা তৎপরতা চালানো হচ্ছে।


